Owaisi on TMC: AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের নাগরিক হিসেবে না দেখে কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছে। তিনি মুসলিমদের নিজস্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরিরও আহ্বান জানান।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়কে কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে শোষণ করেছেন।
মমতাকে দুষলেন ওয়াইসি
হায়দ্রাবাদে এক সাংবাদিক বৈঠকে ওয়াইসি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রয়েছে, তা ভুল। উনি মুসলিমদের নাগরিক হিসেবে দেখেননি, কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ওঁর আমলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। SIR (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) একটা ফ্যাক্টর ঠিকই, কিন্তু তৃণমূল যদি মুসলিমদের নাগরিক ভাবত, শুধু ভোটব্যাঙ্ক না ভাবত, তাহলে আরও অনেক উন্নয়ন হতো।"
বঙ্গের ভোটারদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন
পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের AIMIM-কে সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ জানান ওয়াইসি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে দল নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও কঠোর পরিশ্রম করবে।
তিনি বলেন, "আমি পশ্চিমবঙ্গের সেই ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যাঁরা AIMIM প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের প্রার্থীরা জিততে পারেননি, কিন্তু আমি ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা কান্দিতে খুব ভালো ফল করেছি। আশা করি, শুধু কান্দি নয়, গোটা মালদা, মুর্শিদাবাদে AIMIM-এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। আমরা ভুল শুধরে আরও খাটব। মানুষের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতেই হবে, যাঁরা বিজেপিকে ক্ষমতা দিয়েছে।"
হিমন্ত বিশ্বসর্মাকে নিশানা
ওয়াইসি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মারও সমালোচনা করে বলেন যে তিনি প্রায় ৫০,০০০ মুসলিমকে বাস্তুচ্যুত করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (AIUDF)-এর যদি আরও বেশি বিধায়ক থাকত, তাহলে তারা অসমের ৩০% মুসলিমদের জন্য আরও জোরালো আওয়াজ তুলতে পারত।
তিনি বলেন, "অসমে মানুষ আবার বিজেপির ওপর বিশ্বাস রেখেছে। এটা সত্যি যে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সেখানে প্রায় ৫০,০০০ মুসলিমকে ঘরছাড়া করেছেন, তবুও তারা নির্বাচনে জিততে পারে। আমরা কংগ্রেসকে ভোট দেব ভাবি, কিন্তু ফল কী হচ্ছে? বিজেপিই তো জিতছে। আজমল সাহেবের (AIUDF সভাপতি) যদি আরও বিধায়ক থাকত, তাহলে অসমের ৩০% মুসলিমের কণ্ঠ আরও জোরালো হতো।"
মুসলিম উদ্দেশ্যে বার্তা ওয়াইসির
ওয়াইসি জোর দিয়ে বলেন যে মুসলিমদের উচিত নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা, যাতে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির পক্ষে ভোট দিয়ে তা নষ্ট না হয়।
তাঁর কথায়, "আমার মনে হয়, মুসলিমদের নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করার চেষ্টা করা উচিত। আপনাদের ভোট নষ্ট হচ্ছে, কারণ আপনারা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে ভোট দিচ্ছেন, যারা বিজেপিকে আটকাতে ব্যর্থ। মুসলিমদের নিজেদের নেতৃত্ব তৈরির এটাই সেরা সময়। এই ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর ওপর বিশ্বাস রেখে কিছুই পাওয়া যায়নি।"
AIMIM প্রধান উল্লেখ করেন যে, যে কেন্দ্রগুলিতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) হয়েছে, সেখানে শাসক দলের পতন হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে যথাক্রমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমকে স্ট্যালিনের হারের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এমকে স্ট্যালিনের কেন্দ্রে SIR হয়েছিল এবং দুজনেই হেরেছেন। আমি সংসদেও বলেছিলাম যে নাগরিকত্বকে SIR-এর সঙ্গে যুক্ত করা ভুল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নাগরিকত্বের জন্য নিয়ম আছে; NRC এবং NPR-এরও নিয়ম আছে। এটা শুধু ভোট দেওয়ার বিষয় নয়, নিজের নাগরিকত্ব বাঁচিয়ে রাখার বিষয়। আমরা আশা করি তেলেঙ্গানার রেবন্ত রেড্ডি সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।"


