- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ১৩ বছরের 'বনবাস' শেষ! আবারও পুরনো ছন্দে ফিরতে চলছে মহাকরণ, দেখুন বর্তমানে কেমন আছে রাইটার্স বিল্ডিং
১৩ বছরের 'বনবাস' শেষ! আবারও পুরনো ছন্দে ফিরতে চলছে মহাকরণ, দেখুন বর্তমানে কেমন আছে রাইটার্স বিল্ডিং
Writers'Building:আবারও বঙ্গের প্রধান প্রশাসনিক ভবন ফিরতে চলেছে গঙ্গার এপারে। ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মধ্যেই সংস্কারের নাম করে রাইটার্স থেকে নবান্নে প্রশাসনিক ভবন সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবান্নর পরিবর্তে রাইটার্স
আবারও বঙ্গের প্রধান প্রশাসনিক ভবন ফিরতে চলেছে গঙ্গার এপারে। ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মধ্যেই সংস্কারের নাম করে রাইটার্স থেকে নবান্নে প্রশাসনিক ভবন সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার রাজ্যে পরিবর্তনের পর আবারও নবান্ন থেকে রাইটার্সে ফিরতে চলেছে প্রশাসনিক ভবন।
বিজেপির বার্তা
একটি ইন্টারভিউতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে নবান্ন নয়, সরকার পরিচালিত হবে মহাকরণ অর্থাৎ রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই মহারণে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
PWDর আধিকারিকরা মহাকরণে
৪ মে সোমবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ করেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে রাইটার্সে। কারণ ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের একাধিক আমলা বিশেষ করে PWDর আধিকারিকরা মহারণের হালহাকিকৎ খতিয়ে দেখতে এসেছেন। 'দুয়োরানির' মত পড়ে থাকা মহাকরণের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
মহাকরণ থেকে নবান্ন যাত্রা
সালটা ছিল ২০১৩। ৫ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন চলে যান। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলছে। আর সেই কারণে মাত্র ৬ মাসের জন্য রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় মহাকরণ থেকে নবান্নে নিয়ে যাচ্ছেন। ৬ মাস পরেই ফিরবেন।
১৩ বছরের 'বনবাস'
মহাকরণের পাত্তাতাড়ি গোটানোর পর কেটে গেছে প্রায় ১৩ বছর। গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আর ফিরে আসেননি মহাকরণে। রাজ্যের অন্দরে লালবাড়ি নামেই পরিচিত মহাকরণ। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে সংস্কারের কাজ। বহিরঙ্গ ও অন্দরমহলে সারাইয়ে হাত পড়লেও কাজ সে ভাবে এগোয়নি।
মহাকরণে অফিস!
মমতা নবান্নে চলে গিয়েছেন। হেরিটেজ সংস্থার সঙ্গে কথা বলে মহাকরণের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও একাধিক দফতরের অফিস রয়েছে এখানে। সেগুলি হল- স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর। পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিপার্টমেন্ট, ভূমি সংস্কার দপ্তর, কৃষি, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের অংশ। এছাড়া, আইন দপ্তর, জুডিশিয়াল, পরিষদীয় বিষয়ক দপ্তরের একটা অংশ এখান থেকে কাজ করে।
মহাকরণের বর্তমান অবস্থা
২০২১ সালে মহাকরণের সংস্কার কার হয়েছিল। কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। হেরিটেজ কমিটির সঙ্গে কথা বলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাঠামো সংস্কার করা হয়ছিল। তবে মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর ঘর, আর তার পাশেই যে মিটিং রুম রয়েছে সেগুলি এখনও নির্মীয়মান।
রোটান্ডার বারান্দা
রোটান্ডার বারান্দার জায়গায় কাজ চলছে। ছাদের লোহার বিম একই রয়েছে। পুরোন কাঠামো বাঁচিয়ে সংস্কারের কাজ চলছে। লিফট বসানো হয়েছে। তবে তা বন্ধ। তবে দোতলার তুলনায় তিন তলার কাজের পরিবেশ রয়েছে। মূল বিল্ডিং-এক অনেকটা অংশই ভাঙাচোরা রয়েছে।
শৌচাগার সমস্যা
প্রশাসন সূত্রের খবর, এখনও শৌচাগারে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা নেই। মহিলাদের সমস্যায় পড়তে হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও কর্মীদের অভিযোগ রয়েছে। যত্রতত্র আবর্জনা থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রয়েছে লালবাড়িতে।
মহাকরণের ইতিহাস
১৭৭৬ সালে টমাস লায়ন (Thomas Lyon) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কেরানিদের (Writers) বসবাসের জন্য কলকাতার লাল দীঘির পাড়ে রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ তৈরি করেন । ১৭৮০ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এটি ছিল মূলত ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বাসস্থান, যা পরে প্রশাসনিক ভবনে রূপান্তরিত হয়।

