Suvendu on Mamata: মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, এই বিষয়ে তাঁর বিশেষ কিছু বলার নেই, কারণ সংবিধানেই সব বলা আছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দিতে রাজি না হওয়ায় বিতর্ক বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিলেন, এই বিষয়ে তাঁর বেশি কিছু বলার নেই। কলকাতার বিজেপি অফিস থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "সংবিধানে সব লেখা আছে। আমার বেশি কিছু বলার দরকার নেই।"
শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বড় জয় পেয়েছেন। বিজেপির পক্ষে স্পষ্ট জনতার রায় থাকা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন। তাই নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই এই মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মমতার প্রতিক্রিয়া
এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেন, "আমি ইস্তফা দেব না, আমি হারিনি, আমি রাজভবনে যাব না। প্রশ্নই ওঠে না। ...নৈতিকভাবে আমরাই জিতেছি।" বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরের দিনই তিনি এই মন্তব্য করেন। এই নির্বাচনে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ৮০টি আসন পেয়েছে। এই ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে "নোংরা, জঘন্য এবং বিদ্বেষপূর্ণ খেলা" খেলার অভিযোগ তুলেছেন।
মমতা আরও বলেন, "দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এই নির্বাচনে সিইসি (Chief Election Commissioner) ভিলেনের ভূমিকা পালন করেছেন... মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ইভিএম লুট করার জন্য। ভোটের পর ইভিএমের চার্জ ৮০-৯০% থাকে কী করে? এটা কীভাবে সম্ভব? ভোটের দু'দিন আগে থেকে ওরা আমাদের লোকেদের গ্রেফতার করতে শুরু করে। সব জায়গায় তল্লাশি চালায়। সব আইপিএস এবং আইএএস অফিসারদের বদলে দেওয়া হয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ওরা নিজেদের দলের লোক বেছে নিয়েছিল এবং বিজেপি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলে খেলাটা খেলেছে। এটা বিজেপি আর নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটা বেটিং ছিল। আমরা সব যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছি। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সরাসরি জড়িত ছিলেন। ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমরা আদালতে যাওয়ার পর ৩২ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ওরা নোংরা, জঘন্য এবং বিদ্বেষপূর্ণ খেলা খেলেছে। আমি আমার জীবনে এই ধরনের নির্বাচন দেখিনি।"
ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে হেরে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট গণনা প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, তাঁকে "ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, হেনস্থা করা হয়েছে এবং পেটে লাথি মারা হয়েছে" এবং সিসিটিভি বন্ধ ছিল।
সোমবার ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এই পরিস্থিতিতে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে তাদের প্রথম সরকার গঠনের জন্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।


