সাড়ে পাঁচ মাস বাদে, রবিবার অবশেষে আগুন নেভানো গেল অসমের তিনসুকিয়া জেলার বাঘজান তৈলক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্থ গ্যাস কূপটির। গত ৯ জুন একটি গ্যাস বিস্ফোরণের পর থেকে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের এই গ্যাস কূপটি জ্বলছিল। সম্প্রতি, ৫ নভেম্বর অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড কানাডা থেকে একটি স্নাবিং ইউনিট নিয়ে এসেছিল। সেই পাঁচ সদস্যের দলের সদস্যরাই ব্রাউন সলিউশন দিয়ে বাঘজানের ৫ নম্বর তৈলকূপের আগুন নেভাতে সফল হয়েছে।

আগুন নেভার পর একটি অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কূপটিতে এই মুহূর্তে গ্যাসের কোনও চাপ নেই। কোনওভাবে অন্য কোনও জায়গা থেকে এসে জমা হয়ে গ্যাসের চাপ তৈরি হয় কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য কূপটিকে ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কূপটিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আরও একটি অভিযান চলছে। অয়েল ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তারা ইতিমধ্য়েই বাঘজান তৈল ক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত কূপটির পরিদর্শন করেছেন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কূপের নিরাপতম্তা নিয়ে তাঁদের বিশদে আলোচনা হয়েছে। ”

অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড টুইট করেছে, “বাঘজান ব্লাউট সফলভাবে মারা গেছে: কূপটি সামুদ্রিক দ্রবণ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগুন পুরোপুরি ডুবে গেছে। কূপে এখন কোনও চাপ নেই এবং এটি 24 ঘণ্টার জন্য পরিদর্শন করবে যে কোনও পরিমাণ গ্যাস মাইগ্রেশন এবং চাপ বাড়ানো আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। "

গত ২৭ মে ওয়ার্কওভার অপারেশনের সময় গ্যাসের কূপটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। গত ৯ জুন থেকে দাউ দাউ করে দজ্বলতে শুরু করেছিল কূপটি। ওই দিন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল দুই দমকলকর্মীর। তারপরই ঘটনাস্থলের আশেপাশের গ্রামগুলি থেকে বহু গ্রামবাসীকে নিরাপদ এলরাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর আবার গত ৯ সেপ্টেম্বর বাঘজান তৈলক্ষেত্রে আগুন নিরসনের কাজ করতে গিয়ে হাই ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক শক লেগে অয়েল ইন্ডিয়া সংস্থার এক ইঞ্জিনিয়ার প্রাণ হারিয়েছিলেন।