১ মে থেকে বন্ধ আটারি - ওয়াঘা সীমান্ত। প্রায় ৭০ জন পাক নাগরিক আটকে পড়ায়, বুধবার তাতে কিছুটা শিথিলতা আনে ভারত সরকার। মানবিকতার খাতিরে আপাতত পাকিস্তানি নাগরিকদের ১ মে-র পরেও ভারত ছাড়ার সুযোগ দিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত গতকাল থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়েছে। উভয় দেশ থেকে কেউই অন্য দেশে প্রবেশ করেনি এখনও। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কিত সন্ত্রাসবাদী ঘটনার পর পাকিস্তানের সাথে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছে ভারত। অবিলম্বে পাকিস্তানী নাগরিকদের ভারত ছাড়ার নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১ লা মে থেকে আটারি - ওয়াঘা সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার হয়েছে। তবে ৩০ এপ্রিল দেশ ছাড়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অমৃতসরে প্রায় ৭০ জন পাকিস্তানি নাগরিক আটকা পড়েন আটারি - ওয়াঘা সীমান্তে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দেশ ছাড়ার নির্দেশে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও চিন্তায় বহু পাক নাগরিক। এক সপ্তাহ ধরে সীমান্তে ভিড়ের কারণে বৃহস্পতিবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়।.বহু মানুষের ভিড়ের কারণেই সীমান্ত পারাপার করতে দেয়া হয়নি, যতক্ষণ না সরকারি নির্দেশ এসে পৌঁছায়। তবে মানবতার খাতিরে সীমান্ত বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ শিথিল করলো ভারত সরকার। বৈধ নথিপত্র সহ ঘরে ফিরতে পারবেন আটকে থাকা পাক নাগরিক।

ভারতে পাক হামলার পর গত সাত দিনে বহু নাগরিক ভারত ও পাকিস্তান সীমান্ত পার করে যে যার দেশে ফিরেছেন। আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে বুধবার আবারও মোট ১২৫ জন পাকিস্তানি ভারত ত্যাগ করলেন। এখনো পর্যন্ত মোট ৯১১ জন পাকিস্তানির সীমান্ত পার হওয়ার খবর আছে। এমনকি মোট ২৩ জন পাকিস্তানি ভিসাধারীও ভারত ত্যাগ করে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। একইভাবে, এদিন পাঞ্জাবের অমৃতসর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ১৫২ জন ভারতীয় নাগরিক ভারতে ফিরেছেন। এই ধরণের মোট মানুষের সংখ্যা প্রায় ১,৬১৭ জন। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী ভারতীয় ভিসাধারী ৭৩ জন পাকিস্তানি নাগরিক ভারতে প্রবেশ করায় এই ধরণের মানুষের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২২৪ জনে।

সার্ক ভিসাধারীদের ভারত ছাড়ার জন্য শেষ তারিখ ছিল ২৬ এপ্রিল এবং মেডিকেল ভিসাধারীদের জন্য শেষ তারিখ ছিল ২৯ এপ্রিল। ব্যবসা, চলচ্চিত্র, সাংবাদিক, ট্রানজিট, সম্মেলন, পর্বতারোহণ, ছাত্র, দর্শনার্থী, দলগত পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং দলগত তীর্থযাত্রী - এই ১২টি বিভাগের জন্য দেশে ফেরার শেষ তারিখ ছিল ২৭ এপ্রিল। ২৩ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের তিনজন প্রতিরক্ষা ও সামরিক, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ভারত ত্যাগের জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। এর সাথে আরও পাঁচজন সহায়ক কর্মীকেও ভারত ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে তার প্রতিরক্ষা অ্যাটাশকেও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।