বাবা গুরুতর অসুস্থ, হয়তো শেষ দেখা হবে না। খবর পেয়েই কাতার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন আদতে কেরলের ইড়ুক্কি জেলার বাসিন্দা ৩০ বছরের লিনো আবেল। কিন্তু বাবার সঙ্গে দেখা হয়নি। একই হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও করোনাভাইরাস তাদের মাঝে পাঁচিল তুলেছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শুয়ে ভিডিও-তে দেখতে হয়েছে বাবার শেষকৃত্য।

আরও পড়ুন - বেঙ্গালুরু-তে স্বামী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, আগ্রায় দোল খেলতে চলে গেলেন স্ত্রী

কাতারে এক প্রাইভেট সংস্থায় কাজ করেন আবেল। তাঁর পরিবাহর থাকে কেরলের ইড়ুক্কি জেলার আলাকোড়ে গ্রামে। দিন কয়েক আগে তাঁর বাবা খাট থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তাঁকে আলাপ্পুঝা মেডিকাল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরে ডাক্তাররা তাঁর ইন্টারনাল ব্লিডিং হওয়ার কথা জানানোয় কোট্টাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন - ভাইরাসের ভয়ের মধ্যেই বিকোচ্ছে কেজি প্রতি ২০০০ টাকায়, খাবেন নাকি 'করোনা' মাছ

গত ৭ মার্চ খবর পেয়েই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কোচির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন আবেল। কোচি বিমান বন্দরে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেচিবাচক আসায় তিনি সহজেই সেই বাধা পেরিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তারপরেও বাইরে থেকে এসেছেন বলে আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত এড়িয়েই গিয়েছেন তিনি। এমনকী বাবাকে দেখতে তাঁর সামনেও যাননি।

আরও পড়ুন - সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গোপনে তৈরি করোনাভাইরাস-এর টিকা

গত ৮ তারিখ হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর হঠাতই গলাজ্বালা শুরু হয়। সঙ্গে কাশি। ডাক্তাররা তাঁকে জানান, কাতারে দ্রুত ছড়াচ্ছে কোভিড-১৯। এরপরই তাঁকে বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রেখে তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন - বন্ধ সব সেক্স ক্লাব, 'করোনা-আতঙ্কে' লম্বা লাইন গাঁজা-চরসের দোকানের বাইরে

তার পরদিনই, বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে আসে সেই দুঃসংবাদ। আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আবেল-এর বাবার মৃত্যু হয়েছে। একই হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও আইসোলেশন প্রোটোকল-এর জন্য বাবা-কে দেখতে যেতে পারেননি আবেল। হাসপাকালের জানলা দিয়ে বাবার দেহ অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে হয়। তারপর বাড়ি থেকে একজন ভিডিও কল করেছিলেন আবেল-কে। সেই ভিডিও কলেই বাবাকে শেষবার দেখার সুযোগ হয় তাঁর। শেষকৃত্যও সেইভাবেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে শুয়ে শুয়ে দেখতে হয়েছে তাঁকে।

আরও পড়ুন - নির্ভয়াকাণ্ডের আসামিরাও কি কোভিড-১৯ আক্রান্ত, তিহার-এ নেওয়া হল বিশেষ ব্যবস্থা

এখনও লিনো আবেল-এর করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল আসেনি। কিন্তু, বাবার মৃত্যুর পর তিনি মনে প্রাণে চাইছেন সেই ফল যেন ইতিবাচক আসে। নইলে তাঁকে কোভিড-১৯'ও আক্রান্ত না হয়েও স্রেফ সন্দেহভাজন হয়ে বাবাকে শেষ দেখা দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে থাকতে হবে তাঁকে।