করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই কর্নাটকের জেলেদের জন্য এল সুখবর। মেঙ্গালুরুর বানিজ্যিক বন্দরে বিশাল সংখ্যায় এসে পৌঁছেছে করোনা মাছ। মেঙ্গালুরু উপকূল অঞ্চলে এই মাছ পাওয়া গেলেও, খুব বেশি ধরা যায় না। সামুদ্রিক খাবার হিসাবে করোনা মাছ দারুণ জনপ্রিয়। তবে মেঙ্গুলুরু উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা এই মাছ খান না। গুজরাটিদের অবশ্য দারুণ পছন্দের এই মাছ।

আরও পড়ুন - করোনা আতঙ্কের জেড়, ট্রেনের এসি কোচে কম্বল দেওয়া বন্ধ করল রেল

এই বিরল মাছের দাম-ও নেহাত কম নয়। বাজারে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় করোনা মাছ। মেঙ্গালুরুর মানুষ এই মাছ খান না বলে করোনা মাছ ধরা পড়লে তা গুজরাট-সহ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে রফতানি করা হয়। প্রচুর লাভ হয় মৎসজীবী ও মৎস ব্যবসায়ীদের। তবে, এইবার করোনাভাইরাস আতঙ্ক যেভাবে ভারত-সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এই বিপুল সংখ্যক করোনা মাছ ধরা পড়লেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না জেলেরা।

আরও পড়ুন - মহামারীর জেরে বাড়িতে বসে কাজ করেছিলেন নিউটন-ও, আবিষ্কার হয়েছিল মহাকর্ষ সূত্র

করোনাভাইরাস সংক্রমণ যে গতিতে ছড়াচ্ছে প্রায় সমান গতিতেই ছড়াচ্ছে এই রোগ নিয়ে নানান গুজব। তারমধ্যে অন্যতম হল আমিষ অর্থাৎ মাছ-মাংস ভক্ষণ করলে নাকি কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই গুজবে মুরগি বিক্রি প্রায় বন্ধের মুখে। চিনের সামুদ্রিক খাওয়ারের বাজারেই প্রথম কোভিড-১৯ রোগীর খোঁজ মিলেছিল বলে অনেকের ধারণা সামুদ্রিক মাছ বা প্রাণী ভক্ষণ থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে করোনাভাইরাসের।

আরও পড়ুন - বাতিল সেক্স পার্টি থেকে চুমুহীন মিলন - করোনাভাইরাস থাবায় কাতর যৌনজীবন

এই অবস্থায় করোনাভাইরাস প্রচুর পরিমাণে বন্দরে এলেও তা কতটা বিক্রি হবে কতাই নিয়ে চিন্তিত মেঙ্গালুরুর মৎসজীবীরা। প্রথমত, করোনা মাছ সামুদ্রিক মাছ। দ্বিতীয়ত, এই মাছের নামের সঙ্গে মারাত্বক ভাইরাসটির নাম সাদৃশ্য। এর আগে করোনাভাইরাস-এর সঙ্গে নামের মিল আচে বলে 'করোনা' ব্র্যান্ডের বিয়ার খাওয়া ছাড়তে দেখা গিয়েছে একাংশের মানুষকে। তাই, সব মিলিয়ে প্রচুর করোনা মাছ ধরা পড়ায় মেঙ্গালুরুর মৎসজীবীদের মনে যেমন আনন্দ রয়েছে, তেমনই ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কাও ঘোরাফেরা করছে।

আরও পড়ুন - করোনা নিয়ে উদ্বেগে ইসলামিক স্টেট-ও, জঙ্গিদের জন্য জারি বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ-কে ঘিরে উদ্ভূত অভূতপূর্ব পরিস্থিতি-তে মৎস ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। মেঙ্গালুরু সহ দেশের বেশ কয়েকটি মৎস বন্দরেই বাধা পেয়েছে বাণিজ্য। এই নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। বন্দরে মাছ কেনাবেচা বা নিলাম যে একেবারে হচ্ছে না, তা নয়, কিন্তু সেই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নিতান্তই কম।