রাতের শিফটে কাজ করতে গিয়েই বেমালুম ‘গায়েব’ হয়ে যাচ্ছেন মহিলারা, বিশেষত কম বয়সিরা। ৪ মাসে এই নিয়ে ৪টি ডায়েরি জমা পড়ল পুলিশের কাছে। 

রাতের শিফটে কাজ, সেখান থেকে বাড়িও ফিরে যাচ্ছেন কোনও কোনও কর্মী। কিন্তু, বাড়িতে না পৌঁছে কোথায় ‘গায়েব’ হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা? এমন ঘটনা ঘটছে প্রধানত কম বয়সি মহিলা কর্মীদের ক্ষেত্রেই! ভারতের উন্নততম স্মার্ট সিটি-র সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে সম্পূর্ণ শহরবাসীর। 

-

কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ -এ একটি ক্যাব কোম্পানিতে বুকিং এজেন্ট হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন ২৭ বছর বয়সী মহিলা, গত চার দিন ধরে কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাঁর। বুধবার কেম্পেগৌড়া বিমানবন্দর থানায় নিজের বোনের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কর্মীর দাদা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

-

পুলিশের মতে, তুমাকুরুর বাসিন্দা নেত্রা, ডব্লিউআইটি ক্যাব কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং বিমানবন্দরের কাছে হুনাসামরানাহল্লি এলাকায় একটি পিজি আবাসনে থাকতেন তিনি, যেটির নাম ছিল 'যমুনা'। একজন পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, “তিনি প্রত্যেকদিন নিজের পরিবারকে ফোন করতেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন। ২৯ ডিসেম্বর বিকেলে ফোন করে তিনি জানিয়েছেন যে, সেদিন তাঁর রাতের শিফটে কাজ আছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে আর তাঁর পরিবারের কাছে তাঁর কোনও ফোন কল আসেনি। তাঁর পরিবারের মানুষজন যখন তাঁর ফোনে কল করেন, তখন তাঁরা জানতে পারেন যে, নেত্রার ফোন সুইচ অফ করা রয়েছে। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন যে, হয়তো নেত্রার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে, তাই ফোনটি বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু, ৩০ তারিখের পর ৩১ ডিসেম্বর ফোন করেও তাঁরা শোনেন যে, ফোনটি বন্ধ রয়েছে। তখনই তাঁদের দুশ্চিন্তা চরমে পৌঁছয়।" 


-

বোনের খোঁজ নেওয়ার জন্য WIT ক্যাব সার্ভিসের অফিসে ২ জানুয়ারি পৌঁছন নেত্রার দাদা মহেশ কুমার। তিনি জানতে পারেন যে, নেত্রা রাতের শিফটে কাজ শেষ করে ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৬ টায় বাড়ি চলে গেছেন। তিনি তখন নেত্রার আরও অনেক বন্ধু এবং পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু কেউই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি। মহেশ কুমার তখন বোনের জন্য ‘নিখোঁজ’ এফআইআর দায়ের করেন।

বেঙ্গালুরুতে এক মাসের মধ্যে একজন মহিলা নিখোঁজ হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা এবং গত চার মাসে বিমানবন্দর থানায় এই নিয়ে চতুর্থ নিখোঁজ ব্যক্তির এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩-এ, ইন্ডিগোর কার্গো বিভাগে নিযুক্ত ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর মা, নিজের মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনিও একটি ‘নিখোঁজ’ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু, তাঁর মেয়েকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।


-
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।