নেপালের বন্যার জেরে বিহারে গঙ্গা আর শোন নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী হেলিকপ্টারে করে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন। আটকে পড়া গ্রামবাসীদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আকাশপথে বন্যা পরিস্থিতি দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী, দ্রুত সাহায্যের নির্দেশ
শুক্রবার বিহারের বন্যা কবলিত এলাকা আকাশপথে ঘুরে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। প্রতিবেশী দেশ নেপালে হড়পা বানের জেরে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। এই অবস্থায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ কেমন চলছে, তা খতিয়ে দেখেন তিনি।
এই সমীক্ষার পর মুখ্যমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি এবং দুর্গতদের সাহায্যের জন্য প্রশাসন কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার খোঁজখবর নেন। পরে এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, আধিকারিকদের দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "...বন্যা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে সময়মতো সবরকম সাহায্য পান, তাঁদের যেন কোনও অসুবিধা না হয় এবং জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়, তার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি।"
বিপদসীমা ছাড়িয়েছে নদী, জলের তলায় বহু গ্রাম
নেপালের হড়পা বানের প্রভাব বিহারে কতটা পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিলই। এর মধ্যেই রাজ্যের গঙ্গা ও শোন নদী বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী বহু গ্রাম জলের তলায়। রাজ্যজুড়ে মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এলাকার গ্রামগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গ্রাম থেকে বেরোনোর জন্য নৌকা এবং ত্রাণসামগ্রীর খুব দরকার। অনেকে আপাতত এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এক বয়স্ক গ্রামবাসী বলেন, ছ'টা পঞ্চায়েত পুরোপুরি জলের তলায়, যাতায়াতের কোনও উপায় নেই। তিনি জেলাশাসক এবং স্থানীয় বিধায়কের কাছে নৌকার ব্যবস্থা করা, গবাদি পশুর খাবার এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর আবেদন জানান। তাঁর কথায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আটকে পড়া মানুষজন স্থানীয় বাজারে যেতে পারছেন না, এমনকি অসুস্থদের হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
গঙ্গা বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় দানাপুর ব্লকের মানস, হেতনপুর, আকিলপুর, গঙ্গাহারা, পটলাপুর এবং কাসমিচকের মতো নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সংকট আরও বেড়েছে। বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মানের-এর দুটি পঞ্চায়েত এবং গঙ্গার ধারে অবস্থিত ছ'টি নদী তীরবর্তী পঞ্চায়েত পুরোপুরি জলমগ্ন। শহর থেকে এই এলাকাগুলির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সতর্কতা
এদিকে, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সাধারণ মানুষকে নদীর দিকে বা তার আশেপাশের এলাকায় অকারণে যেতে বারণ করা হয়েছে। নদীতে স্নান, সাঁতার, সেলফি তোলা বা নৌকাবিহার করতেও নিষেধ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


