অনার কিলিং বা সম্মান রক্ষায় খুনের ঘটনা অহরহ হয়েই চলেছে বিশেষ করে এই সামাজিক ব্যধিতে আক্রান্ত উত্তর ও পশ্চিম ভারত  এমনকী পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত শেষমেশ সম্মান রক্ষায় খুনে রাজস্থান সরকার নিল এক কঠোর পদক্ষেপ

অনার কিলিং বা পরিবারের সম্মান রক্ষায় খুন-এর শাস্তি এবার মৃত্যুদণ্ড। রাজস্থান বিধানসভায় এই মর্মে পাশ হয়ে গেল একটি বিল। রাজস্থান বিধানসভায় সোমবার পাশ হওয়া ওই বিলে বলা হয়েছে, পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে কোনও যুগলকে নির্বিচারে হত্যা করা হলেে তার শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দ্য রাজস্থান প্রহিবেশন অফ ইন্টারফেয়ারেন্স উইথ দ্য ফ্রিডম অফ ম্যাট্রিমোনিয়াল অ্যালায়েন্সেস-এর নাম নিয়ে অনার অ্যান্ড ট্র্যাডিশনাল বিল, ২০১৯-কে ধ্বনি ভোটে রাজস্থান বিধানসভায় পাশ করানো হয়। 

অনার কিলিং বা পরিবারের সম্মান রক্ষায় খুনের মতো জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে সপ্তাহখানেক আগেই পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল-ও রাজস্থান বিধানসভায় সরব হয়েছিলেন। তিনি অনার কিলিং-এর মোকাবিলায় বিধানসভায় এক কঠোর বিলের প্রস্তাবকে সামনে নিয়ে আসেন। এদিন সেই বিলটিকেই ধ্বনি ভোটে পাশ করানো হয়েছে।

পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী-র মতে গত পাঁচ বছরে রাজস্থানে অনার কিলিং-এর মতো ঘটনা বহুবার ঘটেছে। খাপ পঞ্চায়েত প্রদত্ত নিদানের ভিত্তিতে রাজস্থানে ৭১টি অনার কিলিং-এর ঘটনা গত পাঁচ বছরে নথিভুক্ত হয়েছে । যার মধ্যে চারজন পুরুষ এবং আটজন মহিলাকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনা ক্রমাগত আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও জানান শান্তি ধারিওয়াল। বিরোধীরা অবশ্য এই বিলটিকে সামাজিক সংষ্কৃতি ও রীতিনীতির প্রতি আঘাত বলে চিহ্নিত করেছে এবং বিলটির জন্য জনমত গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও বিধানসভার অধ্যক্ষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এই বিলে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনও দম্পতির বিবাহকে অসম্মানিত করবে, বা জাতি-ধর্ম-বর্ণ- বা সম্প্রদায়ের ভেদাভেদ করা তাঁদের হত্যা করবে সেই ব্যক্তিতে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। শুধু তাই নয় এর জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে।