১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার বর্ষপূর্তির দিনেই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের 'চলো দিল্লি' র‍্যালি। এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করলেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন। তাঁর দাবি, এই র‍্যালি শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করেছে।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের 'চলো দিল্লি' কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার বর্ষপূর্তির দিনেই এই র‍্যালি করাটা অত্যন্ত 'অসংবেদনশীল'। তাঁর দাবি, এর ফলে শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে চরম আঘাত লেগেছে। বিজেপিও এদিন শিখ দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে একটি পাল্টা মিছিল করে। দাঙ্গার বর্ষপূর্তিতে কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক র‍্যালির তীব্র বিরোধিতাও করে তারা।

BJPর নিশানায় রাহুল গান্ধী

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে কেশবন বলেন, "১৯৮৪ সালের শিখ গণহত্যার বর্ষপূর্তির দিনেই রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া জোট এই নৈরাজ্যবাদী মিছিল করছে। এটা গোটা শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে গভীরভাবে আহত ও অপমানিত করেছে।" কেশবন ১৯৮৪ সালের দাঙ্গার ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে আরও বলেন, "আজকের এই অসংবেদনশীল মিছিল করে ওরা কী বার্তা দিতে চাইছে? ১৯৮৪ সালের এই দিনেই কংগ্রেস শাসনে গুরুদ্বারগুলোতে হামলা হয়েছিল। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শিখদের ওপর হওয়া সেই অবর্ণনীয় ও ভয়াবহ অত্যাচারে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল।" তিনি রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টারও অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, "রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া জোটের আসল উদ্দেশ্য হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বদনাম করা এবং আমাদের গণতন্ত্রকে লাইনচ্যুত করা। রাহুল গান্ধীর ব্যর্থ রাজনৈতিক কেরিয়ার বাঁচাতে ওরা একটা নৈরাজ্যবাদী সরকার বদলের চেষ্টা করছে। গোটা দেশেই এই র‍্যালির কড়া সমালোচনা হচ্ছে।" উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকও ইন্ডিয়া জোটের এই বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এসব করছে।

পাঠক বলেন, "ইন্ডিয়া জোটের লোকেরা যতই চেষ্টা করুক না কেন, দেশের মানুষ এই অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি কখনোই মেনে নেবে না। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের সংবিধান মেনে আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কাজ করছি।"

বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে অজুহাত দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "ওরা ভালো করেই জানে যে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ওদের ডাল গলবে না। তাই মুখ বাঁচাতে ওরা নানা রকম অজুহাত খাড়া করছে। কেউ কেউ তো শুধু খবরের শিরোনামে আসার জন্যই এসব করছে। সাধারণ মানুষ কখনোই ওদের সমর্থন করবে না।"

দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের ব়্যালি

ইন্ডিয়া জোট মূলত ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে রামলীলা ময়দানে এই 'চলো দিল্লি' কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। এদিকে, রবিবার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের রামলীলা ময়দানের র‍্যালি এবং পশ্চিম দিল্লিতে বিজেপির পাল্টা মিছিল ঘিরে গোটা রাজধানী কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। দিল্লি পুলিশ, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (CAPF), সিআরপিএফ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RPF) সহ প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান এই দুটি রাজনৈতিক কর্মসূচি সামলাতে মধ্য ও নয়াদিল্লি জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল।