রবিবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মেগা র্যালি এবং বিজেপির পাল্টা পদযাত্রা ঘিরে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। যানজট এড়াতে জারি হয়েছে ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি।
রবিবার কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজধানী। একদিকে রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের মেগা ব়্যালি, অন্যদিকে পশ্চিম দিল্লিতে বিজেপির পাল্টা পদযাত্রা। এই দুই রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরেই এখন সরগরম দিল্লি।
কড়া নিরাপত্তি দিল্লিতে
পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্য ও নয়াদিল্লি জুড়ে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি পুলিশ, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (CAPF), সিআরপিএফ (CRPF) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)।
শুধু রামলীলা ময়দান এবং মিন্টো ব্রিজ থেকে সভাস্থল পর্যন্ত রাস্তাতেই ৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রয়েছেন। কনট প্লেস, যন্তর মন্তর, ভগবান দাস রোড এবং সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন অফিসের আশেপাশে কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি বহু স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের মিছিল
অননুমোদিত জমায়েত রুখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ভিড় সামলাতে সিসিটিভি ক্যামেরা, এআই-যুক্ত ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম এবং ড্রোনের সাহায্য নিচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের 'চলো দিল্লি' র্যালি শুরু হবে সকাল ১১টায়। দুপুর ১২টা নাগাদ সাংসদরা কনস্টিটিউশন ক্লাবে জড়ো হয়ে মিন্টো রোড-কনট প্লেস জংশন হয়ে রামলীলা ময়দানের দিকে এগোবেন।
এই মেগা ব়্যালিতে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমন্ত সোরেন, রেবন্ত রেড্ডি, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ যাদবের মতো শীর্ষ বিরোধী নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ব়্যালির কারণে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মধ্য দিল্লির বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকে যাত্রীদের সেই অনুযায়ী যাতায়াতের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা
'১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে, সকাল ১০:০০টা থেকে বিকাল ৫:০০টা পর্যন্ত মধ্য দিল্লির কিছু অংশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে এবং বিনোদনের ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে। যাত্রীদের আগে থেকে তাদের যাত্রার পরিকল্পনা করতে, নির্ধারিত বিকল্প পথ অনুসরণ করতে এবং ট্র্যাফিক কর্মীদের সাথে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রস্তাবিত বিকল্প পথ অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সাধারণ নির্দেশাবলী * মোটরচালকদের প্রভাবিত রাস্তাগুলি এড়িয়ে চলতে, গণপরিবহন, বিশেষ করে মেট্রো ব্যবহার করতে এবং ট্র্যাফিকের নির্দেশাবলী অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। * রাস্তার পাশে পার্কিং এড়িয়ে চলুন এবং জরুরি যানবাহনের জন্য রাস্তা পরিষ্কার রাখুন। * রিয়েল-টাইম আপডেট এবং সহায়তার জন্য, নিম্নলিখিত চ্যানেলগুলির মাধ্যমে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের সাথে যোগাযোগ করুন: ফেসবুক: https://t.co/XMFa7Ld8gD প্ল্যাটফর্ম ০১১-২৫৮৪৪৪৪৪ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে আপনার সহযোগিতার জন্য দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ কৃতজ্ঞ। #DTPUpdates @LtGovDelhi @CPDelhi @CMODelhi @timesofindia @the_hindu @IndianExpress @AmarUjalaNews @NavbharatTimes @Live_Hindustan @TimesNow @IndiaToday @republic @aajtak @ZeeNews @Ndtvin_Ochan @ এনডিটিভিন @RedFMIndia @bigfmindia'
— Delhi Traffic Police (@dtptraffic) October 31, 2026
যে রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ
নেতাজি সুভাষ মার্গ টি-পয়েন্ট, রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও এ-পয়েন্ট, আজমেরি গেট রেড লাইট, রঞ্জিত সিং ফ্লাইওভার, ভবভূতি মার্গ-ডিডিইউ মার্গ রেড লাইট, ঝান্ডেওয়ালান রাউন্ডঅ্যাবাউট, তুর্কম্যান গেট এবং মীরদর্দ চক-সহ ১০টি প্রধান ডাইভারশন পয়েন্টে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইটিও এবং দিল্লি গেটের মাঝে বিএসজেড মার্গ, জেএলএন মার্গ, অরুণা আসফ আলি রোড, মিন্টো রোড, ডিবিজি রোড, ডব্লিউ-পয়েন্ট, মান্ডি হাউস রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে বারখাম্বা রোড, সিকান্দ্রা রোড, কেজি মার্গ, ফিরোজ শাহ রোড এবং চেমসফোর্ড রোডে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরু নানক চক, কমলা মার্কেট রাউন্ডঅ্যাবাউট, হামদর্দ চক এবং তুর্কম্যান গেটের আশেপাশেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। বিএসজেড মার্গ, রাজঘাট থেকে জেএলএন মার্গ, ডিবিজি রোড এবং মিন্টো রোডে ডিটিসি বাস চলাচলও নিয়ন্ত্রিত হবে।
অশান্তি রুখতে সতর্ক দিল্লি পুলিশ
ইন্ডিয়া জোটের মিছিল প্রসঙ্গে ডিসিপি সেন্ট্রাল রোহিত রাজবীর বলেন, "আমরা ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পুরো এলাকা মুড়ে ফেলেছি। আয়োজকদের নিজস্ব কন্ট্রোল রুমও রয়েছে। পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।" তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাকে দুটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। "প্রথমটি মিন্টো ব্রিজ থেকে শুরু হবে, কারণ সেখান থেকেই সভাস্থলের দিকে মিছিল যাওয়ার কথা। তাই আমরা ট্রাফিকের পাশাপাশি ওই রুটের নিরাপত্তাও কভার করব। দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তা থাকবে সভাস্থলে, যেখানে আমাদের নিজস্ব বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বাইরের বাহিনীও থাকবে এবং নিরাপত্তার দিক থেকে এলাকাটি কভার করতে সিসিটিভি ক্যামেরার জাল বিছানো থাকবে। পুরো রুট জুড়ে আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাও থাকবে। প্রায় ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।"
তিনি বলেন, "আয়োজকরা বেশ কয়েকটি ঘেরাটোপ তৈরি করেছেন এবং সেখানে আমাদের পুলিশ কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। এই ঘেরাটোপগুলোর মাঝে হাঁটার রাস্তাও রয়েছে, যেখানে এলাকা সুরক্ষিত রাখতে আমাদের পুলিশ কর্মীরা মোতায়েন আছেন। এছাড়াও, 'সেবা দল', সিভিল ডিফেন্স কমিটি এবং স্থানীয় বাসিন্দা সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতো অনেক স্বেচ্ছাসেবক আমাদের সাহায্য করছেন। তারা আশেপাশের রাস্তায় ভিড় সামলাতে সাহায্য করছেন।"
ইন্ডিয়া জোটের পাল্টা বিজেপির মিছিল
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ১১টায় হরি নগর বাস ডিপো থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত শুরু হবে বিজেপির পদযাত্রা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, দিল্লি বিজেপির সভাপতি, প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা, সর্দার এইচএস ফুলকা, মনজিন্দর সিং সিরসা এবং সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ-সহ শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জেল রোডের হরি নগর ডিটিসি ডিপো থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত বিজেপির পদযাত্রার কারণে পশ্চিম দিল্লিতেও যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত এই রুটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।
বিজেপির পদযাত্রা নিয়ে দিল্লি পুলিশের বার্তা
ট্রাফিক নির্দেশিকা: রবিবার, ১লা নভেম্বর ২০২৬ তারিখে হরি নগর ডিটিসি ডিপো (জেল রোড) থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এর ফলে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং ট্রাফিক রুট পরিবর্তন (ডাইভারশন) করা হতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে লাজবন্তী চক ও তিলক নগরের মধ্যবর্তী জেল রোডের উভয় দিক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। যাত্রীদের বিকল্প পথ হিসেবে সেবা মার্গ–পাঙ্খা রোড অথবা মায়াপুরি রোড ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী আগেভাগে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সাধারণ নির্দেশাবলি: * গাড়িচালকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তারা প্রভাবিত রুটগুলো এড়িয়ে চলেন, গণপরিবহন (বিশেষ করে মেট্রো) ব্যবহার করেন এবং ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশাবলি মেনে চলেন। * রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করা থেকে বিরত থাকুন এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহনের জন্য রাস্তা ফাঁকা রাখুন। * নির্ধারিত বিকল্প পথ অনুসরণ করুন এবং দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের সহযোগিতা করুন। * তাৎক্ষণিক আপডেট ও সহায়তার জন্য দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের সাথে নিচের মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ করুন: ফেসবুক: https://t.co/XMFa7Ld8gD, প্ল্যাটফর্ম এক্স (X): https://t.co/hro9F9Bmge, ইনস্টাগ্রাম: https://t.co/aL9StmHNJn, হোয়াটসঅ্যাপ: ৮৭৫০৮৭১৪৯৩, হেল্পলাইন নম্বর: ১০৯৫ / ০১১-২৫৮৪৪৪৪। নিরাপদ ও সুষ্ঠু যান চলাচল নিশ্চিত করতে আপনাদের সহযোগিতার জন্য দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ কৃতজ্ঞ। #DelhiTrafficPolice #TrafficAdvisory #DTPUpdates @LtGovDelhi @CPDelhi @CMODelhi @timesofindia @the_hindu @IndianExpress @AmarUjalaNews @NavbharatTimes @Live_Hindustan @TimesNow @IndiaToday @republic @aajtak @ZeeNews @ndtvindia @news24tvchannel @ABPNews @AAI_Official @RedFMIndia @bigfmindia— Delhi Traffic Police (@dtptraffic) October 31, 2026
জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ পদক্ষেপ
ট্রাফিকের অবস্থার ওপর নির্ভর করে লাজবন্তী চক এবং তিলক নগরের মধ্যে জেল রোডের দুটি লেনই সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। হরি নগর থেকে নজফগড় রোড-তিলক নগরের দিকে যাওয়া গাড়িগুলো লাজবন্তী চক, সাগরপুর 'টি' পয়েন্ট এবং পাঙ্খা রোড হয়ে সেবা মার্গ ধরতে পারে। যারা নজফগড় রোড-রাজৌরি গার্ডেনের দিকে যাবেন, তারা লাজবন্তী চক থেকে মায়াপুরী রোড ধরতে পারেন।
লাজবন্তী চক থেকে ফ্লাইওভার হয়ে তিলক নগর পর্যন্ত জেল রোড; দিল্লি হাট থেকে হরি নগর রোড পর্যন্ত লাল সাঁই মার্গ; এবং হরি নগর, ঘণ্টা ঘর ও ডিটিসি ডিপো হরি নগরের মাঝের রাস্তাগুলো প্রভাবিত হতে পারে। রবিবার শহরজুড়ে বনধ বা দিল্লি মেট্রো স্টেশনগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকার কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। মানুষজন পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারবেন, তবে র্যালি এবং মিছিলের রুটের আশেপাশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এলএনজেপি (LNJP) হাসপাতাল এবং জিবি পন্থ (GB Pant) হাসপাতালের দিকে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলোর জন্য বিশেষ করিডোর ফাঁকা রাখা হয়েছে।






