বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া দিল্লি হাইকোর্টে ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুয়ো AI-জেনারেটেড গ্রাফিক পোস্ট করে তাঁর সম্মানহানি করা হয়েছে।

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নেতা তথা সিনিয়র আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া দিল্লি হাইকোর্টে একটি মানহানির মামলা করেছেন। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP), তার নেতা অভিজিৎতিপকে ও আশুতোষ রাঙ্কা এবং সাংবাদিক সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপমানজনক পোস্ট করার অভিযোগে এই মামলা। ভাটিয়া তাঁর সম্মানহানির জন্য ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁর সম্পর্কে অপমানজনক কোনও বিষয়বস্তু প্রকাশ বা প্রচার করার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন তিনি।

গৌরব ভাটিয়ার অভিযোগ


মামলার বয়ান অনুযায়ী, বিতর্কের সূত্রপাত একটি AI-জেনারেটেড গ্রাফিককে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই গ্রাফিকে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ সম্পর্কে কিছু মন্তব্য গৌরব ভাটিয়ার নামে চালানো হয়। গ্রাফিকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ ছড়িয়ে পড়ে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে CJP কর্মী নিশু আজাদের বাবার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিক সৌরভ দাস ওই বিতর্কিত গ্রাফিকটি X-এ শেয়ার করেন। ভাটিয়ার দাবি, তিনি ওই ধরনের কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি দাসকে পোস্টটি সরিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেন।
মামলা অনুযায়ী, সৌরভ দাস এরপর পোস্টটি ডিলিট করে দেন এবং নিজের X অ্যাকাউন্টে জানান যে গ্রাফিকটি AI দিয়ে তৈরি। কিন্তু ভাটিয়ার অভিযোগ, এরপরও সেই পোস্টটি ছড়ানো হতে থাকে। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, CJP-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা দাসের অ্যাকাউন্ট থেকে ওই বিতর্কিত গ্রাফিকটি রিপোস্ট করেন এবং বিজেপি নেতাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করে একটি ক্যাপশনও দেন।
ভাটিয়ার দাবি, অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট এবং অপমানজনক তথ্য প্রচার করেছেন। মামলার বয়ান অনুযায়ী, একটি অপমানজনক পোস্ট প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ১.৩২ লক্ষেরও বেশি ইউজার দেখে ফেলেছিলেন। বিজেপি নেতার অভিযোগ, এই পোস্টগুলো ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর সম্মান এবং পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মামলায় সৌরভ দাসের পুরনো কিছু পোস্টেরও উল্লেখ করা হয়েছে, যা উমর খালিদ এবং বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে করা হয়েছিল। একটি পোস্টে খালিদের জেলবন্দি থাকাকে 'ভারতের বিচারব্যবস্থার ওপর স্থায়ী কলঙ্ক' বলে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে 'মিথ্যা' ও 'তুচ্ছ' বলা হয়েছিল।
ভাটিয়ার অভিযোগ, এই ধরনের পোস্টগুলো কোনও নির্দিষ্ট বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্য সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে বিচারব্যবস্থার ওপর বৃহত্তর আক্রমণের সামিল।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা একটি রেজিস্টার্ড নয় এমন সংগঠনের নামে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন বিষয়বস্তু প্রকাশ ও প্রচার করে চলেছে। এই সমস্ত অভিযোগ দেওয়ানি মামলায় করা হয়েছে এবং দিল্লি হাইকোর্ট এখনও এগুলি বিবেচনা বা বিচার করেনি।
এই মামলার মাধ্যমে ভাটিয়া ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের ওই অপমানজনক বিষয়বস্তু প্রকাশ, রিপোস্ট বা প্রচার করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ চেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে বিতর্কিত পোস্টগুলি সরানোর আবেদনও করেছেন তিনি।