বর্ষাকালে ঘরে পিঁপড়ে, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। বাজারের রাসায়নিক ব্যবহার না করে রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান যেমন ভিনিগার, লেবু, নিম বা নুন ঘর মোছার জলে মিশিয়ে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
বর্ষা এলেই ঘরে একটা স্যাঁতস্যাঁতে ভাব চলে আসে। এর সাথে যদি মেঝেতে খাবারের ছোটখাটো কণা বা নোংরা পড়ে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই! লাল পিঁপড়ে, মাছি আর ছোট ছোট পোকামাকড়ের উপদ্রব হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। এগুলো শুধু দেখতেই খারাপ লাগে না, বরং নানা রোগের সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ও থাকে।
আপনিও কি এই সমস্যায় জেরবার? বাজারের কেমিক্যালযুক্ত কড়া স্প্রে ব্যবহার না করে, রান্নাঘরের সাধারণ কয়েকটি জিনিস দিয়েই এর সহজ সমাধান করতে পারেন। প্রতিদিন ঘর মোছার (Mopping) জলে নিচের জিনিসগুলো মিশিয়ে পরিষ্কার করলে, এদের গন্ধে কোনও পোকামাকড়ই ঘরে ঢুকবে না।
১. সাদা ভিনিগার (White Vinegar)
এক বালতি জলে প্রায় আধ কাপ সাদা ভিনিগার ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এই জল দিয়ে সারা ঘর মুছে ফেলুন। ভিনিগারের কড়া গন্ধ পিঁপড়ে বা অন্য পোকামাকড় একদমই সহ্য করতে পারে না। শুধু তাই নয়, এটি মেঝের তেলচিটে দাগ তুলে টাইলসকেও ঝকঝকে করে তোলে।
২. লেবুর রস
যদি বাড়িতে ভিনিগার না থাকে, তাহলে লেবুও ব্যবহার করতে পারেন। এক বালতি জলে ২ থেকে ৩ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ঘর মুছুন। লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড মেঝের জীবাণু নষ্ট করে। এর টক গন্ধ মাছি ও অন্যান্য পোকাদের দূরে রাখে এবং সারা বাড়িতে একটা তাজা সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
৩. নিম পাতার জল
নিম পাতা যে একটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক, তা আমরা সবাই জানি। কয়েকটি নিম পাতা জলে দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। জল ঠান্ডা হয়ে গেলে, তা ছেঁকে ঘর মোছার জলে মিশিয়ে দিন। এই জল দিয়ে ঘর মুছলে, কোনও বিষাক্ত কেমিক্যাল ছাড়াই মেঝে জীবাণুমুক্ত হবে এবং আরশোলা বা পিঁপড়ের মতো পোকা ধারেকাছেও আসবে না।
৪. নুন বা সন্ধক নুন
এটি সবচেয়ে পুরোনো এবং সহজ একটি ঘরোয়া টোটকা। হালকা গরম জলে দুই চামচ নুন বা সন্ধক নুন দিয়ে গুলে নিন। এই জল দিয়ে ঘর মুছলে পিঁপড়ের সারি সঙ্গে সঙ্গে উধাও হয়ে যায়। এমনকি বাস্তুশাস্ত্র মতেও, নুন জল দিয়ে ঘর মুছলে বাড়ির নেতিবাচক শক্তি দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
৫. বেকিং সোডা ও লিকুইড সোপ
রান্নাঘর বা ডাইনিং হলের মেঝে যদি তেলচিটে হয়ে যায়, তাহলে হালকা গরম জলে সামান্য বেকিং সোডা (Baking Soda) আর কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পরিষ্কার করুন। এটি খাবারের কণা থেকে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধ দূর করে এবং আরশোলা আসা আটকায়। liবাড়িতে ছোট বাচ্চা থাকলে, যে কোনও রাসায়নিকের বদলে এই ধরনের প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের পক্ষেও অনেক বেশি নিরাপদ। আজই এই টিপসগুলো চেষ্টা করে দেখুন!


