নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিরুদ্ধ মত একেবারেই না পসন্দ বিজেপি-র নেতা, মন্ত্রীদের। তা সে যতই সমালোচকের নাম মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা হোক না কেন! 

নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ মীনাক্ষী লেখির রোষের মুখে পড়লেন মাইক্রোসফটের সিইও। নাদেলা বলেছিলেন, নাগরিকত্ব আইন ভারতের পক্ষে খুব খারাপ একটি বিষয়। এর জবাবেই বিজেপি সাংসদ মীনাক্ষী লেখি টুইটারে লেখেন, 'যাঁরা পড়াশোনা জানেন, তাঁদেরকেও যে শিক্ষিত করার প্রয়োজন আছে এটা তার আদর্শ উদাহরণ।' এর সঙ্গে নাদেলাকে আরও খোঁচা দিয়ে বিজেপি সাংসদ লেখেন, 'নাগরিকত্ব আইনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের বিতাড়িত সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন। এই একই অনুমতি কেন আমেরিকায় ইয়েজেদিদের বদলে সিরিয়ান মুসলিমদের দেওয়া হবে না। 

আরও পড়ুন- নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ, বিবৃতি জারি মাইক্রোফট সিইও সত্য নাদেলা-র

আরও পড়ুন- 'সংবিধান বিরোধী নাগরিকত্ব আইন', প্রথম রাজ্য হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে কেরল সরকার

সত্য নাদেলা প্রথমে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নাগরিকত্ব আইন নিয়ে নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছিলেন। মাইক্রোসফট- এর সিইও বলেন, 'যা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। এটা খুবই খারাপ। আমি তো চাই একজন বাংলাদেশি শরণার্থী ভারতে এসে একজন পরবর্তী ইউনিকর্ন তৈরি করবে অথবা ইনফোসিস- এর পরবর্তী সিইও হবে।'

এর পরে নাদেলার নতুন একটি বিবৃতি জারি করে বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মাইক্রোসফট। সেখানে কিছুটা সূক্ষ্মভাবে নয়া আইনের সমালোচনা করেন নাদেলা। তিনি জানান, ''নিজের সীমানা, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত করার এবং শরণার্থী আইন ঠিক করার অধিকার সব দেশেরই আছে। গণতন্ত্রে সরকারকে বিতর্কের মধ্যে দিয়েই এই সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করতে হবে। আমি ভারতীয় পরম্পরা এবং বহুত্ববাদের মধ্যে বেড়ে উঠেছি, পরবর্তী সময়ে অভিবাসী হিসেবে আমেরিকাতে থাকারও অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি এমন ভারতের স্বপ্ন দেখি যেখানে একজন শরণার্থী এসে সমৃদ্ধশালী ব্যবসা শুরু করতে পারবে অথবা কোনও একটি বহুজাতিক সংস্থাকে নেতৃত্ব দেবে যা আখেরে ভারতীয় অর্থনীতি এবং সমাজকেই উপকৃত করবে।'

ইরাক, সিরিয়া, জর্জিয়ার মতো দেশে আইএস-এর হাতে আক্রান্ত ইয়েজেদিদের একটা বড় অংশ আমেরিকায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলেই এ দিন নাদেলাকে পাল্টা খোঁচা দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ।