সারা দেশে কৃষি বিলকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি যখন বিজেপিকে কৃষক-বিরোধী দল হিসাবে প্রতিপন্ন

করতে চাইছে, ঠিক সেই সময়ই, শুক্রবার এক নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ওড়িশা বিধানসভা। রাজ্যের

কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরতে চেয়ে অধিবেশন চলাকালীনই আত্মহননের চেষ্টা করলেন বিজেপি বিধায়ক

সুবাসচন্দ্র পানীগ্রাহী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গিয়ে চরম দুর্দশারসম্মুখীন হচ্ছেন।

আর তা সমাধান করতে ব্যর্থ, নবীন পট্টনায়েকের নেতৃত্বাধীন বিজু জনতা (BJD) সরকার।

এদিন রাজ্য বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখছিলেন খাদ্য সরবরাহমন্ত্রী রণেন্দ্রপ্রতাপ

সোয়াইন। সেই সময়ই হঠাৎই দেওগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুবাসচন্দ্র পানীগ্রাহী একটি স্যানিটাইজারের

বোতল হাতে নিয়ে তার ভিতরের তরল পান করার চেষ্টা করেন। শোরগোল পড়ে যায় বিধানসভায়। সংসদ

বিষয়ক মন্ত্রী বিক্রম কেশরী আরুখ এবং উপস্থিত আরও কয়েকজন বিধায়ক ছুটে গিয়ে সুবাসচন্দ্র

প্যানগ্রাহীর হাত থেকে স্যানিটাইজারের বোতলটি ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে ওই কাজ করা থেকে আটকান।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, নিজের আচরণকে সমর্থনই করেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর প্রশ্ন,

বিধানসভায় যদি তাঁর কথা কেউ না শোনে, তবে একজন বিধায়কের আর কী করার থাকতে পারে? তাঁর

অভিযোগ বিধায়কদের কথা সরকার কানে নেয় না । মন্ত্রীরা মিথ্যা বক্তব্য রাখেন। স্পিকারের রায় নিরপেক্ষ

হয় না। এমন আইনসভার মূল্য কী? তিনি আরও বলেন, আইনসভায় তিনি এসেছেন জনগণের সেবা করতে।

কিন্তু জনগণের পক্ষে কিছুই করতে পারছেন না। কৃষকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে, ধানের ব্যাগ রাস্তায়

ফেলে দিচ্ছে, কেউ তাঁদের কথা শুনছে না। সেই কথা শোনাতেই তিনি এমনটা করেছেন।

বিজেপি বিধায়কের দাবি, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অনেক উপায় রয়েছে। আত্মহত্যার চেষ্টা করে প্রতিবাদ

করাটা ভুল হবে কেন? তাঁর এই পদক্ষেপে কাউকে আত্মহত্যায় উৎসাহিত করবে না, বলেই তাঁর দাবি। বরং,

তাঁর এই প্রয়াসে রাজ্যের কৃষকরা খুশি হবে। তাদের ধান কেনা হবে। প্রসঙ্গত সুবাস পানিগ্রাহী গত মাসেই

সরকারকে হুমকি দিয়েছিলেন, কৃষকদের সমস্যা শীঘ্রই সমাধান না করা হলে, তিনি আত্মহত্যা করতে দ্বিধা

করবেন না।