মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সারা ভারতকে অবাক করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার সকালে শপথ নিলেন বিজেপি প্রার্থী  দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।  শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপির জোট, উদ্ধব ঠাকরের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা সমস্ত নস্যাৎ করে  অবশেষে বাজি মারল বিজেপি। বিজেপিকে অজিত পাওয়ার সমর্থন করলেন। আর তাতেই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের পথে বিজেপি।  বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, এবার শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতের মুখ বন্ধ করে রাখা প্রয়োজন। শিবসেনাকে ওই একটা নেতাই ধ্বংস করে দিচ্ছে। মহারাষ্ট্রে সংখ্যগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন নিয়েই বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে। 

 

মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে যখন থেকে সমস্যা দেখা দিয়েছে, শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত একাধিকবার বিজেপির সমালোচনা করেছেন।  গত দুই সপ্তাহে একাধিকবার সঞ্জয় রাউত দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে ক্ষমতা লোভী বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিজেপির নেতা চন্দ্রকান্ত পাতিল  শিবসেনাকে বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার ভোটের আগে থেকে জোট। শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে শিবসেনা।  পাতিল মন্তব্য করেছেন,  জনগণ বিজেপি-শিবসেনা জোটকে দেখে ভোট দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ১৬১টি আসনে এই জোট জয় লাভ করেছে। বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজন জানিয়েছেন, ১৭০ টি বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজেরপি মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতে চলেছে। 

শুক্রবার  এনসিপি, কংগ্রেস ও শিবসেনা একসঙ্গে বৈঠকে বসেন।  সেখানেই সবার অনুমতি নিয়ে উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন বলে ঠিক হয়।  মুখ্যমন্ত্রীর হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে মুখ খুললেন  দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। তিনি জানিয়েছেন,  মহারাষ্ট্রের মানুষ জগাখিচুরি  কোনও সরকার চায়নি।  রাজ্যের মানুষের জনাদেশকে অস্বীকার করে শিবসেনা কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে জোট করতে উদ্যোগ নিয়েছিল। যা রাজ্যের মানুষ কখনই মেনে নেবে না।  শনিবার সকাল ৫টা ৪৭ মিনিটে  মহারাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন  তুলে নেওয়া হয়। আটটায় মহারাষ্ট্রের  মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন  দেবেন্দ্র ফড়নবীশ ও  উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অজিত পাওয়ার।