- Home
- India News
- Blinkit Ambulance: আসছে ব্লিংকিট অ্যাম্বুলেন্সে! লাগবে ২৫০০ টাকা? কী জানালেন দীপিন্দর গয়াল
Blinkit Ambulance: আসছে ব্লিংকিট অ্যাম্বুলেন্সে! লাগবে ২৫০০ টাকা? কী জানালেন দীপিন্দর গয়াল
ব্লিনকিট এবার নন-ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ২৫০০ টাকা নেবে বলে জানালেন দীপিন্দর গয়াল। তবে জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স বুকিং আগের মতোই ফ্রি থাকছে।

ব্লিনকিট অ্যাম্বুলেন্স বুকিং আর সব ক্ষেত্রে ফ্রি থাকছে না। জ়োম্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা এবং ইটারনাল-এর ভাইস চেয়ারম্যান দীপিন্দর গয়াল বৃহস্পতিবার জানান, নন-ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ২৫০০ টাকা চার্জ নেওয়া হবে। তবে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই মিলবে। রুটিন চেক-আপ বা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য অনেকেই এই অ্যাম্বুলেন্স বুক করছিলেন। এর ফলে সত্যিকারের বিপদে পড়া মানুষরা পরিষেবা পাচ্ছিলেন না। তাই এই নতুন নিয়ম চালু করল কোম্পানি।
আমি সেবার মনোভাব নিয়ে জ়োম্যাটো শুরু করেছিলাম। ব্লিনকিট অ্যাম্বুলেন্স আজ সেই সেবারই প্রতিচ্ছবি।
গত ২ বছরে আমরা প্রায় ২০,০০০ ইমার্জেন্সি কেস (মোট প্রায় ৪২,০০০ কেস) সামলেছি। এর জন্য আমরা এক টাকাও নিইনি। আর আমরা এটাই বজায় রাখতে চাই।
সবকিছু ফ্রি হওয়ায়, রুটিন চেক-আপ, হাসপাতাল ভিজিট এবং হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বুকিং বেড়ে যাচ্ছিল। এই কাজগুলো উবার বা প্রাইভেট গাড়িতেও করা যেত। এই ধরনের বুকিংয়ের ফলে, সত্যিকারের বিপদে পড়া মানুষের জন্য জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছিল।
তাই আমরা এখন থেকে একটা পরিবর্তন আনছি: ইমার্জেন্সি ট্রান্সফার – আগের মতোই ফ্রি। নন-ইমার্জেন্সি ট্রান্সফার – ট্রিপের পর ২৫০০ টাকা চার্জ করা হবে। প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সগুলো মোটামুটি এমনই চার্জ নেয়। এই টাকা ইটারনাল ফাউন্ডেশনের কাছে যাবে, যারা এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো চালায়। এর ফলে আমরা পরিষেবা আরও বাড়াতে পারব।
আমরা আশা করছি, এই চার্জের ফলে নন-ইমার্জেন্সি কেসে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে। ১০ মিনিটের অ্যাম্বুলেন্স হাজার হাজার প্রাণ বাঁচিয়েছে এবং বাঁচাতে পারে। তাই যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্যই এগুলো উপলব্ধ রাখা দরকার।
আরও একটা কথা। উন্নত মানের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা বাড়ানো বেশ কঠিন। সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রশিক্ষিত এবং সহানুভূতিশীল প্যারামেডিক পাওয়া। আমাদের ট্রেনিং অ্যাকাডেমি গুণমানের সঙ্গে আপস না করেই দ্রুত কাজ করছে। @albinder এবং তাঁর টিম আগামী ২-৪ বছরের মধ্যে ভারতের সব বড় শহরে ব্লিনকিট অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।
সুস্থ থাকুন, আর আমি প্রার্থনা করি যেন আপনাদের আমাদের প্রয়োজন না হয়। @sparsh_sehgal – আপনার ঠাকুমার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি, আর আমরা যে ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পেরেছি, তার জন্য আমি খুব আনন্দিত।
— দীপিন্দর গয়াল (@deepigoyal) ৫ নভেম্বর, ২০২৬
কিন্তু এই নতুন চার্জের আওতায় ঠিক কী কী পড়বে? ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্স বুকিং কি ফ্রি থাকবে? আর কেনই বা ব্লিনকিট এই ফি চালু করল? চলুন জেনে নিই বিস্তারিত।

দীপিন্দর গয়াল জানিয়েছেন, নন-ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ট্রিপ পিছু ২৫০০ টাকা নেবে ব্লিনকিট। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর এই টাকা দিতে হবে। রুটিন চেক-আপ বা সাধারণ হাসপাতাল ভিজিটের মতো ক্ষেত্রে এই চার্জ প্রযোজ্য, যেখানে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
গয়াল জানান, সাধারণ ক্যাব বা প্রাইভেট গাড়িতেই এই ধরনের যাতায়াত সম্ভব। কিন্তু এর জন্য ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্স বুক করলে, সত্যিকারের বিপদে পড়া রোগীরা সমস্যায় পড়েন। তাই এই প্রবণতা কমাতেই নতুন চার্জ চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
হ্যাঁ, জরুরি ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা আগের মতোই ফ্রি থাকছে। গয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিষেবা চালুর পর থেকে ইমার্জেন্সি কেসে রোগীদের কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
গত দু'বছরে ব্লিনকিট প্রায় ৪২,০০০ অ্যাম্বুলেন্স কেস সামলেছে। এর মধ্যে ২০,০০০ ছিল ইমার্জেন্সি কেস, যার জন্য এক টাকাও নেওয়া হয়নি। নন-ইমার্জেন্সি বুকিং বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ও প্যারামেডিক পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। গয়ালের বিশ্বাস, নতুন এই নিয়মের ফলে অপ্রয়োজনীয় বুকিং কমবে এবং বিপদের সময় অ্যাম্বুলেন্স সহজেই পাওয়া যাবে।
নন-ইমার্জেন্সি ট্রিপ থেকে পাওয়া টাকা ইটারনাল ফাউন্ডেশনের কাছে যাবে। এই সংস্থাই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পরিচালনা করে। গয়াল জানান, এই টাকার সাহায্যে ফাউন্ডেশন তাদের পরিষেবা আরও বাড়াতে পারবে। মূল লক্ষ্য হলো, সত্যিকারের বিপদে পড়া মানুষদের জন্য ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক সচল রাখা।
ব্লিনকিট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা কী?
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গুরুগ্রাম থেকে ব্লিনকিট তাদের ১০ মিনিটের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা শুরু করে। ব্লিনকিট অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।
🚨 মাত্র ৯ মিনিটে:
রাজীব চকে এক র্যাপিডো চালক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন এবং তাঁর হাত নাড়াতে পারছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা ব্লিনকিট অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন, যা মাত্র ৯ মিনিটে পৌঁছে যায়। চালকের বড় ফ্র্যাকচার হয়েছিল, তাঁকে দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুরো পরিষেবাটাই ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি।
@letsblinkit স্যালুট 🫡❤️
— অপরাজিতে (@amshilparaghu) ৭ এপ্রিল, ২০২৬
অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্ট্রেচার, মনিটরিং সরঞ্জাম এবং জরুরি ওষুধ সহ সব রকম সুবিধা থাকে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে। সঙ্গে থাকেন একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক, একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ড্রাইভার। রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতেই এই পরিষেবা চালু করা হয়, তবে ট্রাফিক বা লোকেশনের ওপর নির্ভর করে পৌঁছানোর সময় কিছুটা বদলাতে পারে।
দীপিন্দর গয়ালের এই ঘোষণাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। নেটিজেনদের মতে, সাধারণ যাতায়াতের জন্য ইমার্জেন্সি পরিষেবা ব্যবহার করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন ট্যাক্সি বা অন্যান্য গাড়ি সহজেই পাওয়া যায়।
অনুপম বিজেতা নামের এক এক্স ব্যবহারকারী ব্লিনকিটের পরিষেবার প্রশংসা করে জানান, এটি অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে ভালো। দিল্লির বহুতল ভাঙার মতো ঘটনায় এদের দ্রুত কাজ করতে দেখেছেন তিনি।
ভালো সিদ্ধান্ত
আমার মনে হয় ব্লিনকিট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সরকারি এবং অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে অনেক ভালো।
আমি বেশ কয়েকবার দেখেছি, যেমন দিল্লির বহুতল ভাঙার ঘটনায় ব্লিনকিট অ্যাম্বুলেন্স কত দ্রুত কাজ করেছে।
#bkinkit
— অনুপম বিজেতা (@anupam_vijeta) ৫ নভেম্বর, ২০২৬
ডঃ শৌর্য গর্গ, যিনি সফদরজং হাসপাতাল এবং এইমস দিল্লিতে কাজ করেছেন, তিনিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের বেহাল দশা এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের শোষণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্লিনকিটের মাধ্যমে ১০% উন্নতি হলেও তা প্রশংসার যোগ্য।
রোহিত নামের আরেক ব্যবহারকারী জানান, মানুষ রুটিন চেক-আপের জন্য ফ্রি পরিষেবার অপব্যবহার করছিল। তাই ২৫০০ টাকা চার্জ করার সিদ্ধান্ত একদম সঠিক।
ভারত কেন কখনও ইউরোপ বা আমেরিকার মতো হতে পারবে না!!
ব্লিনকিটের প্রতিষ্ঠাতা ইমার্জেন্সি কেস সামলাতে কিছু শহরে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা শুরু করেছিলেন।
ভারতীয়রা কী করল? - রুটিন চেক-আপ, হাসপাতাল ভিজিট আর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য এটা বুক করতে শুরু করল।
তারা সহজেই ওলা, উবার বা র্যাপিডো ভাড়া করতে পারত, কিন্তু তারা ওই টাকাটা বাঁচাতে চাইল!!
এখন ব্লিনকিট নন-ইমার্জেন্সি বুকিংয়ের জন্য ২৫০০ টাকা নেবে আর ইমার্জেন্সি বুকিং ফ্রি থাকবে!!
এই ২৫০০ টাকা সেই ট্রাস্টের কাছে যাবে যারা এই ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সগুলো চালায়!!
ভারতীয়দের কখনও সিভিক সেন্স হবে না আর তারা ভালো পরিষেবার যোগ্য নয়!!
— রোহিত (@Iam_Rohit_G) ৫ নভেম্বর, ২০২৬
অনেকেই আবার মানুষের সিভিক সেন্সের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সব ভালো জিনিসেরই শেষ আছে, বিশেষ করে ভারতে, আর খুব তাড়াতাড়ি।
আমরা মানুষ হিসেবে বড্ড লোভী, অন্যকে সরিয়ে নিজে এগিয়ে যাওয়ার একটা আদিম প্রতিযোগিতা কাজ করে।
এটা ঠিক হতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যাবে, অথবা হয়তো আমরা এমনই।
#amitkilhor #kilhor #bottomquintile #blinkit #ambulance
— অমিত কিলহোর (@amitkilhor) ৫ নভেম্বর, ২০২৬
বেশিরভাগেরই মত, সত্যিকারের বিপদে পড়া রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি ছিল।
(এজেন্সির ইনপুট সহ)