পাশেই হাসপাতাল। কিন্তু, তাও বাসস্টপের ছাউনি ঢাকা আসনেই তিন ঘন্টা ধরে পড়ে থাকল পিপিই দিয়ে জড়ানো এক কোভিড সন্দেহভাজনের দেহ। পরে হাসপাতাল থেকে কর্মীরা এসে তাঁর দেহ নিয়ে গেলেন বটে, কিন্তু, ততক্ষণে সেই দেহ নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ছড়ালো ব্যাপক আতঙ্ক। অনেকে সেই দৃশ্যের ভিডিও তুলে পোস্ট করলেন সোশ্য়াল মিডিয়ায়। যে ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন অংশের মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার কর্নাটকের রানেবেন্নুর তালুকে।

জানা গিয়েছে, বছর ৪৫-এর ওই মৃত ব্যক্তি মারুতি নগর এলাকার বাসিন্দা। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। চিকিত্সা করার জন্য রাণেবেন্নুর তালুক হাসপাতালে এসেছিলেন। ২৮ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। শনিবার সকাল ১১ টার সময় তিনি সেই রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। হাসপাতাল থেকে জানানো হয় ফলাফল আসতে তখনও একটু সময় লাগবে। এরপরই তিনি হাসপাতাল লাগোয়া এক বাস স্টপের ছাউনিতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

কিছুক্ষণ পর অবশ্য সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পথচারীরা তিনি মৃত বা গুরুতর অসুস্থ বুঝে হাসপাতালে খবর দেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সেখান থেকে কর্মীরা তৎক্ষণাৎ ছুটে এসেছিলেন। ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পরি তাঁর মরদেহ একটি পিপিই দিয়ে জড়িয়ে দেন। কিন্তু মর্গে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে দেহটি সেখানেই ফেলে রেখে তাঁরা হাসপাতালে ফিরে যান। তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে দেহটি ওই অবস্থাতেই পড়ে ছিল। পরে ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ তৈরি হতেই ওই কর্মীরা বাসস্টপে ফিরে এসে শেষকৃত্যের জন্য দেহটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যায়।

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজেন্দ্র ডোডামণি ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, কেন ওই দেহটিকে পিপিই-তে জড়ানো হল এবং মর্গে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বাসস্টপে ফেলে রাখা হল, সেই বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস যোগীশ্বর বলেছিলেন ঘটনার বিষয়ে তিন অবগত নন, তবে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে।