Border Security: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকের পর, রাজস্থানের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কড়া পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণের সমীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। জেলা ও গ্রাম স্তরের কমিটিগুলি BSF এবং IB-র সাহায্যে এই সব নির্মাণের টাকার উৎস এবং বিদেশি যোগ খতিয়ে দেখবে।

Border Security: জয়সালমীরের জেলাশাসক অনুপমা জোরওয়াল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত "বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারি" চিহ্নিত করতে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Border Security)। সীমান্তবর্তী সব জেলাকেই এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সম্প্রতি বিকানেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে পাঁচটি সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসক, এসপি, বিএসএফ কর্তা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা এজেন্সির আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার এবং বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সমীক্ষার জন্য কমিটি গঠন

বৈঠকের পরেই আন্তর্জাতিক সীমান্তের ০-৫০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ খতিয়ে দেখতে জেলা ও গ্রাম স্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলি বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবে, যেমন - নির্মাণের জন্য টাকা কোথা থেকে এল, বিদেশি কোনও অর্থ সাহায্য এসেছে কিনা, জমি জবরদখল করা হয়েছে কিনা এবং অস্বাভাবিক কোনও ব্যাঙ্ক লেনদেন হয়েছে কিনা। শুক্রবার থেকে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান সীমান্তে এই সমীক্ষার কাজে বিএসএফ এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) সাহায্য করবে।

এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে জয়সালমীরের জেলাশাসক অনুপমা জোরওয়াল বলেন, "২৬ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর সমস্ত সীমান্তবর্তী জেলাকে ৩৬০-ডিগ্রি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্তের ০-৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সমস্ত বেআইনি দখলদারি এবং নির্মাণের সমীক্ষা করতে বলা হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই আমরা বৃহস্পতিবার, একটি জেলা-স্তরের কমিটি গঠন করেছি। এতে সমস্ত সংশ্লিষ্ট দফতরের জেলা আধিকারিক এবং রাজস্ব আধিকারিকরা রয়েছেন। গ্রাম-স্তরেও কমিটি গড়া হয়েছে, যেখানে কলোনি বিভাগের পাটোয়ারি, পুলিশ এবং তহসিলদাররা আছেন। শুক্রবার থেকেই এই কমিটিগুলি কাজ শুরু করে দিয়েছে।"

জোরওয়াল আরও জানান, কমিটিগুলি চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে।

তদন্তের পরিধি

এই সমীক্ষায় নির্মাণগুলির সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। খতিয়ে দেখা হবে আইনি কাগজপত্র এবং অর্থের উৎস। এই সব নির্মাণে যে বিপুল টাকা খরচ হয়েছে, তা কোথা থেকে এসেছে, এর পিছনে বিদেশি কোনও মদত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি বলেন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, বিএসএফ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই নির্মাণগুলির পিছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করছে। তাদের সঙ্গে কোনও বিদেশি যোগ আছে কিনা বা টাকার উৎস কী, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সমীক্ষার রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

কর্তৃপক্ষ এসবিআই এবং অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করছে। কোনও অস্বাভাবিক দেশি বা বিদেশি ফান্ডিং বা সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় স্তরে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি

স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়াতে প্রশাসন একটি ডেটা নেটওয়ার্ক তৈরি করছে। এতে পাটোয়ারি, পশুপালক, প্রাক্তন সেনা কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা নতুন করে জমি দখলের খবর দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছবে।

সমীক্ষার পরিধি বাড়ানো হয়েছে

বারমেরের জেলাশাসক চিন্ময়ী গোপাল জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিকানেরের বৈঠকে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য এজেন্সিকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শুক্রবার থেকে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথমে সীমান্তের ০-১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সমীক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও, রাজ্য সরকারের নির্দেশে এখন তা বাড়িয়ে ০-৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।