Breast Cancer: জটিল অস্ত্রোপচার বা যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপি নয়, এবার ক্যাপসুল খেলেই নষ্ট হবে ক্যানসার কোষ। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রথমবার খাওয়ার ওষুধে অনুমোদন দিল আমেরিকার FDA, তৈরি করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

Breast Cancer: স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার। জটিল অস্ত্রোপচার নয়, যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপিও নয়। এবার শুধু ক্যাপসুল খেলেই নষ্ট হবে ক্যানসার কোষ! চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন পদ্ধতির প্রয়োগ আগে কখনও হয়নি, এখানেই নতুনত্ব। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রথমবার খাওয়ার ওষুধ আসতে চলেছে বাজারে। ওষুধ নির্মাতা সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ওষুধে অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। ওষুধটির নাম Truqap (Capivasertib) কম্বিনেশনে।

কীভাবে কাজ করবে এই ক্যাপসুল?

এতদিন স্তন ক্যানসারের জন্য কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি বা অস্ত্রোপচারই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই নতুন ওষুধটি কাজ করবে একদম অন্যভাবে।

এই ক্যাপসুলটি একটি টার্গেটেড থেরাপি। স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে অনেক রোগীর শরীরে PIK3CA, AKT1 এবং PTEN জিনে মিউটেশন দেখা যায়, যার ফলে ক্যানসার কোষ দ্রুত বাড়তে থাকে। এই ওষুধ সরাসরি সেই প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়, ফলে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং কোষগুলি নিজে থেকেই মরে যায়। এর সঙ্গে Faslodex (Fulvestrant) হরমোন থেরাপি একসঙ্গে দেওয়া হবে।

কাদের জন্য এই ওষুধ?

FDA জানিয়েছে, এই ওষুধটি বিশেষ করে HR-পজিটিভ, HER2-নেগেটিভ অ্যাডভান্সড স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য, যাদের শরীরে ওই তিনটি জিনের মিউটেশন রয়েছে এবং যাদের ক্যানসার অন্য চিকিৎসার পরেও ছড়িয়ে পড়ছে। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই ওষুধ ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

কেন এটি যুগান্তকারী?

১. কোনও সার্জারির যন্ত্রণা নেই।

২. কেমোথেরাপির মতো চুল পড়া, বমি, দুর্বলতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম।

৩. বাড়িতে বসেই খাওয়া যাবে, হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।

৪. চিকিৎসার খরচও অনেকটা কমবে বলে আশা।

স্তন ক্যানসার গোড়ায় ধরা পড়লে চিকিৎসায় তা নির্মূল করা সম্ভব অনেক ক্ষেত্রেই। সঠিক সময়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যানসার যেমন সেরে যায়, তেমনই সুস্থ হওয়ার পাঁচ-সাত বছর পর তা আবার ফিরেও আসতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে ‘মেটাস্ট্যাটিক ডেভেলপমেন্ট’ বলা হয়। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ক্যানসার নিরাময়ের পর প্রথম পাঁচ বছর পর্যন্ত সাধারণত তার ফিরে আসার সম্ভাবনা তেমন থাকে না, তবে এইচইআর২ জিনটি যদি সক্রিয় থাকে, তা হলে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি থেকেই যায়। সে ক্ষেত্রে ওষুধটি খেলে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমবে বলেই দাবি করা হয়েছে। তা ছাড়া পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রেও ওষুধটি কার্যকর হতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। যদিও এখনই এটি সব ধরনের স্তন ক্যানসারের জন্য নয়, তবে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা হলে ক্যাপসুলেই ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ বিষয় হয়ে যাবে। ভারতের বাজারেও খুব শিগগিরই এই ওষুধ আসবে বলে জানিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।