ভারতে দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কমিশনার অনিল শুকলাল বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নানা বিষয়ে ভিন্ন মত থাকায় আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে ব্রিকসের পক্ষে এক সুরে কথা বলা কঠিন। তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, এই মঞ্চই আলোচনার দরজা খুলে দেয়।
ব্রিকসের ভিন্নমতই কি অভিন্ন কণ্ঠস্বরের পথে বাধা?
সোমবার ভারতে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কমিশনার অনিল শুকলাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া বা রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো সংঘাতগুলোতে ব্রিকস গোষ্ঠীর পক্ষে এক সুরে কথা বলা বেশ কঠিন। কারণ, এই গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
এএনআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শুকলাল বলেন, ব্রিকস কোনও এক ধাঁচের জোট নয়। এর সদস্যরা 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দেশ হিসেবে কিছু বিষয়ে একমত হলেও, তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক অবস্থানও রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মনে হয়, যেকোনো গোষ্ঠীর পক্ষেই এক সুরে কথা বলা খুব কঠিন। আপনি ইইউ বা জি৭-এর মধ্যেও এটা দেখতে পাবেন না। আর এটা খুবই স্বাভাবিক। ব্রিকস একজাতীয় দেশগুলোর গোষ্ঠী নয়। এটি এমন কিছু দেশের সমষ্টি, যারা গ্লোবাল সাউথ-এর দেশ হিসেবে বিশ্বের জন্য একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু আমাদের নিজেদের দেশের এবং আঞ্চলিক স্বার্থও দেখতে হয়।"
আলোচনার মঞ্চ হিসেবেই ব্রিকসের আসল শক্তি
শুকলাল আরও বলেন যে ব্রিকসের সদস্যরা এই পার্থক্যগুলো বোঝেন। ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থাকা সত্ত্বেও দেশগুলোর মধ্যে একসঙ্গে আলোচনার সুযোগ করে দেওয়াই এই গোষ্ঠীর বড় শক্তি। তাঁর কথায়, "আমার মনে হয় ব্রিকস গোষ্ঠী এটা বোঝে। কিন্তু আমাদের যা আছে, তা হলো একে অপরের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কথা বলার ক্ষমতা। আর ব্রিকস ঠিক এই মঞ্চটাই তৈরি করে দেয়।"
তিনি যোগ করেন, যে দেশগুলো বর্তমানে সংঘাতে জড়িত, তারাও ব্রিকস মঞ্চকে ব্যবহার করে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারে। ব্রিকস নেতারা তাদের মধ্যে আলোচনা এবং শান্তির পথে এগোতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারেন। শুকলাল বলেন, "যে দেশগুলো হয়তো বর্তমান সংঘাতে জড়িত, তারা এখানে বসে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারে। আর ব্রিকসের নেতারা তাদের শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। আমার মনে হয়, এটাই ব্রিকসের শক্তি।"
ভারত আয়োজন করছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন
অনিল শুকলালের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ভারতের দিকে সকলের নজর, কারণ চলতি সপ্তাহেই নয়াদিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ২০২৬ সালের ব্রিকস চেয়ার হিসেবে ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করবে।
এই সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য ও সহযোগী দেশগুলোর নেতারা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা যোগ দেবেন। ভারতের এই সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হলো "স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ" (Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability), যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর "সবার আগে মানবতা" (Humanity First) দর্শনের প্রতিফলন।


