গোটা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছে করোনাভাইরাসএই অবস্থায় উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে নজির সৃষ্টি করেছে কেরলসেই কেরলেই এবার দেখা দিল নতুন আতঙ্কগত তিনদিনে অন্তত ১৩টি বিড়ালের মৃত্যু হয়েছে ওয়ানাড় জেলায় 

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, গোদের উপর বিষফোড়া। এ যেন ঠিক তাই। গোটা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মহামারির কবলে পড়েছে, তখন ভারতের কেরল রাজ্যকেই মডেল হিসাবে তুলে ধরছে বেশ কয়েকটি দেশ। কিন্তু, গত দু-তিনদিনে সেই কেরলের ওয়ানাড় জেলার বাসিন্দাদের আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে বেশ কয়েকটি বিড়ালের মৃত্যুর ঘটনা। এই জেলারই সাংসদ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। জেলার মনন্থবাদি ও মেপাড্ডি অঞ্চলে গত তিনদিনে অন্তত ১৩টি বিড়ালের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু ঘটেছে। তারপরই বিড়ালগুলি করোনার বলি হল কিনা এই নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মেপ্পাদির এরকম এক মৃত বিড়ালের মালিকজানিয়েছেন, "করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আকস্মিকবাবে পরপর বিড়ালের মৃত্যুতে আমরা আতঙ্কিত বোধ করছি। স্বাস্থ্য দফতর এবং পশুপালন বিভাগকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এখানে এসে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পশুচিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা ইচিমধ্যেই বিড়াল মালিকদের পরামর্শ দিয়েছেন, কোভিড-১৯'এর থাবা থেকে বাঁচাতে এই সময় পোষ্যদের বাড়ির ভিতরেই আটকে রাখা উচিত। তবে, ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, পোষ্যদের তেকে মানুষের দেহে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি নেই। হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির গবেষণাতেও একই ফল এসেছে।

লকডাউনে বিহারে ব্যাঙ-পোড়া খাচ্ছে শিশুরা, ভাইরাল ভিডিও-র পিছনে লুকিয়ে কোন সত্যি

বাতকর্মের মাধ্যমে কি ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস, তাহলে কি পশ্চাতদেশেও পরতে হবে মাস্ক

লকডাউনে বন্ধ স্নান, বাধ্য করছেন সঙ্গমে, স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশে নালিশ স্ত্রীর

কিন্তু, তারপরেও এই সময় বিষয়টি একেবারেই হাল্কাভাবে নেয়নি কেরল পশুপালন দফতর। এর আগে এই মাসের শুরুতে কেরলেরই এক করোনা রোগীদের ওয়ার্ডে থাকা পাঁচটি বিড়াল করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। তাই এই ক্ষেত্রে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত বিড়ালগুলির দেহ থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।

তাতে দেখা যাচ্ছে, তাদের মৃত্যুর কারণ এক ভাইরাস সংক্রমণ বটে, তবে তা করোনাভাইরাস নয়। বিড়ালগুলি ফেলাইন পারভোভাইরাস সংক্রামণের কারণে মারা গিয়েছে। আরও ভালো খবর হল এই ফেলাইন পারভোভাইরাস একমাত্র বিড়াল ও বিড়াল জাতীয় প্রাণীদেরই আক্রান্ত করে, মানুষের দেহে সংক্রামিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। ওয়ানাড়-এর চিফ ভেটেনারি অফিসার ডাক্তার ডি রামাচন্দ্রন, সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, বিড়ালদের জন্যও চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। কারণ ফেলাইন পারভোভাইরাস-এর টিকা রয়েছে। ওই এলাকার বিড়ালদের শিঘ্রই টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে। তারাও প্রাণে বাঁচবে। তবে মানুষের এই ভাইরাসটি নিয়ে চিন্তা করার কোনও দরকার নেই।