সোমবার বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃত্যুর পরিমাণ ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মোট নিশ্চিত হওয়া মামলার সংখ্যা ২,৪০২,৭৯৮'এ পৌঁছেছে। ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা এ পৌঁছেছে। এই অবস্থায় মানুষের এই নতুন ভাইরাসটি নিয়ে কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে। ডাক্তাররা হাঁচি, কাশি বা থুতু ফেলা নিয়ে সাবধান করেছেন। জানিয়েছেন মুখ বা নাক নিঃসৃত জলের ফোঁটার মাধ্যমেই পরিবাহিত হয় করোনাভাইরাস। অনেকের মনেই অবশ্য অন্য একটা প্রশ্ন এসেছে, লজ্জায় করতে পারেননি। বাতকর্ম, অর্থাৎ পায়ু দিয়ে যদি বায়ু বের হয়, তার মাধ্যমে কী এই নতুন করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে?
 
বিজ্ঞানীরা কিন্তু, কোনও দিকই বাদ রাখছেন না। এই বিষয়েও গবেষণা হয়েছে। সম্প্রতি এক অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক তথা চিকিৎসাবিদ্যার গবেষক, ডাক্তার অ্যান্ডি ট্যাগ, বাতকর্মের মাধ্যমে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস ছড়াতে পারে কিনা তাই নিয়ে গবেষণা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তিনি বেশ কিছু কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের মলের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। তার মধ্যে ৫৫ শতাংশের মলে নতুন করোনাভাইরাসটির উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।

অর্থাৎ, কোভিড-১৯ রোগীদের মলে করোনাভাইরাস থাকতে পারে। এবার প্রশ্ন হল বাতকর্মের মাধ্যমে সেই ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে? একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে পিছন দিয়ে পবন মুক্তি ঘটালে তার সঙ্গে মাইকো কণা বাহিত হয়, যা ব্যাকটিরিয়া ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

লকডাউনে বিহারে ব্যাঙ-পোড়া খাচ্ছে শিশুরা, ভাইরাল ভিডিও-র পিছনে লুকিয়ে কোন সত্যি

ভারতের লকডাউনে যৌনাঙ্গে তালা আফ্রিকান মহিলাদের, বিপদ দেখছেন সমাজকর্মীরা

লকডাউনে বন্ধ স্নান, বাধ্য করছেন সঙ্গমে, স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশে নালিশ স্ত্রীর

ডাক্তার ট্যাগ সোশ্য়াল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাতকর্মের মাধ্যমে ট্যালকম পাউডারের কনা অনেক দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। আকারে ট্যালকম পাউডারের একেকটি কণা, মুখ ও নাক নিঃসৃত যে ভাইরাস বহনকারী জলের ফোঁটার কথা বলা হচ্ছে, তার থেকে প্রায় পাঁচগুণ বড়। অর্থাৎ সেই জলের ফোঁটা বাতকর্মে আরও দূর পর্যন্ত বাহিত হতে পারে। তাহলে কি মুখের মতো পশ্চাতদেশেও মাস্ক বা মুখোশ পড়তে হবে?

এর উত্তর মিলতে পারে ২০০১ সালে কার্ল ক্রুসেল্নিকি এবং লূক টেনেন্ট নামে আরও দুই অজি গবেষকের পরীক্ষায়। তাঁরা বাতকর্মের মাধ্যমে রোগে বহনকারী জীবানু ছড়িয়ে পড়তে পারে কিনা তাই নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। তাদের পরীক্ষার অংশ হিসাবে, দু'জন ব্যক্তিকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকের পশ্চাতদেশ থেকে মাত্র পাঁচ সেন্টিমিটার দূরে একটি করে পেট্রি প্লেট (গবেষণার কাজে ব্যবহৃত কাঁচের প্লেট) রাখা হয়েছিল। একজন প্যান্ট পরে বায়ু ছেড়েছিলেন, অপরজন উদোম অবস্থায়।

দেখা গিয়েছিল যে প্লেটে বায়ু এসে লেগেছিল প্যান্টের মধ্য দিয়ে ফিল্টার হয়ে, সেখানে কোনও ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটেনি। কিন্তু অন্য প্লেটটিতে, রাতারাতি ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হয়েছিল। যদিও এই ব্যাকটেরিয়াগুলির কোনওটিই রোগবহনকারী বা ক্ষতিকারক ছিল না। তবে প্যান্ট পরা থাকলে, বাতকর্মের মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়া বাহিত হতে পারে না, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, ভাইরাস আকারে ব্যাকটেরিয়ার থেকেও ক্ষুদ্র। তাকে কি আটকাতে পারবে প্যান্ট?

চলতি বছরের গোড়াতে, যখন করোনাভাইরাস প্রথম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া শুরু করেছিল, তখন চিনের টংঝৌ প্রদেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ শাখা দাবি করেছিল বাতকর্মের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু, প্যান্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাধা হিসাবে কাজ করে। তাই, যতক্ষণ কেউ প্যান্ট পরে আছে, তার বাতকর্ম থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই।