CBI Arrests Railway Officials: রাজস্থান ও ছত্তীসগঢ়ে রেলের ঠিকাদারদের বিল পাস করানোর নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে বড়সড় অভিযান চালাল CBI। পৃথক তিনটি ঘুষকাণ্ডের মামলায় রেলের মোট ৬ জন আধিকারিক ও তাঁদের সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজস্থান ও ছত্তীসগঢ়ে রেলের ঠিকাদারদের বিল পাস করানোর নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে বড়সড় অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। পৃথক তিনটি ঘুষকাণ্ডের মামলায় রেলের মোট ৬ জন আধিকারিক ও তাঁদের সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে নেমে এক শীর্ষ অফিসারের বাড়ি ও দফতর থেকে নগদ ৭৭ লক্ষ টাকা এবং ১৪ লক্ষ টাকার সোনার গয়না উদ্ধার করেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। এই মেগা দুর্নীতি চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে কলকাতারও। রাজস্থানের বিকানেরে রেলের বিল পাস করানোর এই কারবারে জড়িয়ে পড়েছে কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থার নাম।

কীভাবে দুর্নীতি চক্র চলে

সিবিআই সূত্রে খবর, জয়পুর, বিকানের এবং ভিলই, তিন জায়গায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকা তোলার একাধিক অভিযোগ উঠছিল। নভি মুম্বই এবং কলকাতার সংস্থাকে অন্যায্য সুবিধা দিতে গিয়েই জালে পড়েছেন উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব-মধ্য রেলের অফিসারেরা। ভিলইয়ের 'সিনিয়র ডিএমই' পদমর্যাদার অফিসার ১ লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। তিন জেলাতেই সিবিআইয়ের ম্যারাথন তল্লাশি জারি রয়েছে। ধৃতদের ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সিবিআইয়ের কাছে কী খবর ছিল

সিবিআই সূত্রে খবর, ঠিকাদারদের বিল পাস করা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ওই আধিকারিকেরা ঘুষ দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফাঁদ পেতে ধৃতদের হাতেনাতে ধরা হয়।

৩টি পৃথক মামলা ও সিবিআইয়ের তল্লাশি

১. জয়পুরে ১.৪৬ লক্ষ টাকার ঘুষকাণ্ড:

প্রথম মামলাটিতে উত্তর-পশ্চিম রেলের (NWR) জয়পুর ডিভিশনের এক দফতর সুপারিন্টেন্ডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ, নভি মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি সংস্থার বিল পাস করানোর জন্য উৎকোচ চাওয়া হয়েছিল। গত ১৩ আগস্ট অভিযান চালিয়ে ওই দফতর সুপারিন্টেন্ডেন্ট, এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজর এবং এক জন সিনিয়র সেকশন অফিসারসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১.৪৬ লক্ষ টাকা ঘুষ উদ্ধার করে সিবিআই। পরে জয়পুর ও দিল্লির একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে আরও ৯ লক্ষ টাকা নগদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

২. বিকানেরে কলকাতার সংস্থাসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা:

দ্বিতীয় মামলাটি উত্তর-পশ্চিম রেলের বিকানের ডিভিশনের। সেখানে একটি কলকাতার বেসরকারি সংস্থার কাজ সংক্রান্ত বিল পাসের জন্য উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ১৩ আগস্ট সিবিআই ফাঁদ পেতে ১.২০ লক্ষ টাকা ঘুষ উদ্ধার করে এবং এক সিনিয়র সেকশন অফিসার ও এক অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্টকে গ্রেফতার করে। পাশাপাশি ওই কলকাতার সংস্থার এক কর্মীও ধৃত হন।

৩. ভিলায়ে ৭৭ লক্ষ নগদ ও ১৪ লক্ষের গয়না উদ্ধার:

তৃতীয় মামলাটি দক্ষিণ পূর্ব মধ্য রেলের (SECR) ভিলই এলাকার। ভারতীয় রেলওয়ে সার্ভিস অফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (IRSME)-এর এক সিনিয়র ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ চান বলে অভিযোগ। দর কষাকষির পর ১ লক্ষ টাকায় রফা হয়। ১৩ আগস্ট ৫০ হাজার টাকার প্রথম কিস্তি নেওয়ার সময় ওই অফিসার এবং মধ্যস্থতাকারীকে ধরে ফেলে সিবিআই।

এরপর রায়পুর ও ভিলইয়ে ওই আধিকারিকের বাসভবন ও দফতরে সিবিআই তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে নগদ ৭৭ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়। ১৪ আগস্ট ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন। তিনটি মামলাতেই সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।