তিনি দেশের ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। এই নিয়ে প্রায়ই গর্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এবার তাঁর দলেরই এক সদস্যের বিরুদ্ধে একেবারে ৬৭ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ আনল সিবিআই। বিজেপি নেতা মোহিজ কাম্বোজ  ওরফে মোহিত ভারতীয় নামে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। 

মোহিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০১৩ সালে তিনি নাকি ৬০ কোটি টাকা ঋণ নেন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার থেকে। আর তার পর থেকেই বেপাত্তা এই বিজেপি নেতা। সেই টাকার পরিমাণ সুদ সমেত এখন হয়েছে ৬৭ কোটি। অভিযোগ উঠছে 'অভিযান ওভারসিজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন মোহিত কাম্বোজ। এই কোম্পানির গ্যারান্টার হিসাবে ২০১৩ সালে ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে ৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঋণ নেওয়ার পর আর তাঁর কোন পাত্তাই পায় না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। বাড়তে থাকা ঋণ এবং সুদের বোঝার জেরে ২০১৫ সালে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ‘ঋণখেলাপি’ঘোষণা করে সংস্থটিকে। 

আরও পড়ুন: এবার আর গুণ্ডিচায় মাসির বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না জগন্নাথের, ইতিহাসে এই প্রথম স্থগিত পুরীর রথযাত্রা

সিবিআইয়ের কাছে করা অভিযোগে ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ২০১৪ থেকে কোনও রকম হিসেব দাখিল করেনি মোহিতের সংস্থা। সেটিকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করার পরেই পদত্যাগ করেন সংস্থার সব ডিরেক্টর। তাঁদের মধ্যে মোহিত ছাড়া ছিলেন আরও তিন জন— জীতেন্দ্র কপূর, অভিষেক কপূর ও নরেশ কপূর। সিবিআইয়ের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ব্যাঙ্ক বলেছে, ‘‘এই সংস্থা ও তার ডিরেক্টরেরা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে এবং ব্যাঙ্ককে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়ে গুরুতর অপরাধ করেছেন।’’ ব্যাঙ্কের অভিযোগ অনুযায়ী মোহিত-সহ চার জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা করেছে সিবিআই। এই জালিয়াতিতে ব্যাঙ্কের কিছু কর্মীর ভূমিকাও তদন্ত করে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: নির্ভয়াকাণ্ডের ছায়া এবার নয়ডায়, চলন্ত বাসে গণধর্ণের শিকার হলেন যুবতী

ব্যাঙ্কের থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা ঋণ নেওয়ার পরই নাকি বিজেপি নেতা মোহিত কাম্বোজ পদবী পরিবর্তন করে ভারতীয়ও হয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অস্বীকার করে বিজেপির মুম্বই শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহিত কম্বোজ। উল্টে তিনি দাবি করছেন, দু’বছর আগেই ৩০ কোটি টাকা দিয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিটমাট করে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আড়াই বছর পরে কেন ব্যাঙ্ক নতুন করে অভিযোগ দায়ের করল, বুঝতে পারছি না। তদন্তে সিবিআইকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।’’ 

এদিকে মুম্বই বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মনোজ কম্বোজ ছাড়াও দু’টি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিবিআই। সংস্থা দু’টি হল মেসার্স অ্যাভিয়ান ওভারসিজ প্রাইভেট লিমিটেড এবং কেবিজে হোটেলস গোয়া। এছাড়া আগেই অভিযান ওভারসিজের ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছে সিবিআই।