পাকিস্তান সীমান্ত পরিদর্শন করলেন ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। শনিবার তিনি উত্তর কাশ্মীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর 'চিনার কর্পস'-এর অভিযানিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) বরাবর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অভিযানিক অবস্থান মূল্যায়ন করেন।
পাকিস্তান সীমান্ত পরিদর্শন করলেন ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। শনিবার তিনি উত্তর কাশ্মীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর 'চিনার কর্পস'-এর অভিযানিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) বরাবর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অভিযানিক অবস্থান মূল্যায়ন করেন। তিনি চিনার কর্পসের প্রস্তুতি, পেশাদারিত্ব এবং সামরিক ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বারামুল্লায় বাহিনীর সদর দফতরে CDS চৌহানকে ভবিষ্যতের সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং সামরিক অভিযানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। যা পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর বিশেষ মনোযোগকেই প্রতিফলিত করে। চিনার কোরের অফিসারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে CDS যুদ্ধের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতির উপর আলোকপাত করেন এবং 'ডোমেইন-কেন্দ্রিক' (domain-centric) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে 'বহু-ডোমেইন অভিযান' (MDO)-এর দিকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, আধুনিক সংঘাতে জয় অর্জনের লক্ষ্যে স্থল, আকাশ, সমুদ্র, সাইবার, মহাকাশ এবং জ্ঞানীয় (cognitive)—এই সকল ডোমেইনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় বা সংহতি থাকা অপরিহার্য।
আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে CDS চৌহান যৌথ প্রশিক্ষণ, পারস্পরিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয়ের আহ্বান জানান। তিনি জানান যে যুদ্ধের সকল ডোমেইনে সুসংহত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের সংহতি বা সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন। CDS বাহিনীকে নতুন নতুন হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসিক দৃঢ়তা (cognitive resilience) ও সম্মিলিত প্রস্তুতির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি অবশ্যই উদ্ভাবন, কৌশলগত দূরদৃষ্টি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে 'সমগ্র জাতির সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি'র (whole-of-nation approach) উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। অনিল চৌহান সকল পদমর্যাদার অফিসারদের ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সকল ধরণের সংঘাতের মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার জন্য উৎসাহিত করেন।
সফরকালে তিনি বারামুল্লায় অসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় মানুষদের সঙ্গেও কথা বলেন। এই অঞ্চলে জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যে চলমান প্রচেষ্টাগুলো পর্যালোচনা করেন।
