যখন তাঁরা চার হাত এক করেছিল, তখন সম্প্রীতির এক জয়ধ্বনিতে  সরবে জেগে উঠেছিল আসমুদ্রহিমাচল। চোখে বিষ্ময়, আচরণে বিমুগ্ধতা। সত্যি তা হলে এমনটাও হয়। সত্যি সত্যি বাস্তবায়িত হয়ে যায় এমন বিবাহবন্ধনও! কিন্তু বছর দুয়েকের সংসারজীবনের বাহুডোরে যে সম্পর্কের চিড় যে বড় হয়ে উঠবে তা কে জানত। এমন খবরের বিস্ময়-বিহ্বলতার রেশের মধ্যেই এখন এটাই বড় হয়ে উঠেছে যে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন টিনা ডাবি এবং তাঁর কাশ্মীরি স্বামী আতহার খান। ২০১৫ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় আইএএস-বিভাগের প্রথম দুই উত্তীর্ণ। টিনা ছিলেন প্রথম স্থানে। আর আতহার ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। স্বভাবতই তাঁদের বিবাহবন্ধন দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। কারণ, আইএএস-এ একই বছরে প্রথম দুই স্থানে থাকা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এমন উদাহরণে টিনা ও আতহার-ই প্রথম।  

আরও পড়ুন- 'লিভ-ইন থেকে লুকিয়ে বাগদান', দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছেড়ে কেন বেরিয়ে এলেন 'জ্যাকি' কন্যা

জানা গিয়েছে জয়পুরের পারিবারিক আদালতে মিউচুয়াল বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন জমা করেছেন টিনা এবং আতহার। কী কারণে এই বিচ্ছেদ, তা অবশ্য জানা যায়নি। টিনা এবং আতহারও এই নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মুখ খোলেননি। টিনা ও আতহার দুজনেই ২০১৫ সালে রাজস্থান ক্যাডারে আইএএস হন। সারা ভারতে টিনা ও আতহার যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। মুসৌরিরর লালবাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ টিনা ও আতহার একে অপরেক সংস্পর্শে এসেছিলেন। সেখান থেকে প্রেম এবং পরে বিবাহ। তাঁদের বিবাহ দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। কারণ, আইএএস-এর মেধাতালিকায় একদম উপরের দিকে থাকলেও টিনা হলেন দলিত সমাজের প্রতিনিধি এবং আতহার হলে কাশ্মীরের পহেলগ্রামের বাসিন্দা। যার জন্য তাঁদের বিয়েকে সম্প্রীতির এক মেলবন্ধন বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন অনেকে। যাদের মধ্যে সর্বাগ্রে ছিলেন খোদ রাহুল গান্ধী। 

আরও পড়ুনজ- সর্বনাশ, স্বামীকে আড়াল করে পরকীয়ায় মত্ত এই বাঙালি অভিনেত্রী, ১২ সেকেন্ডেই যা হল

টিনা-র আদি বাড়ি ভোপালে। বাবা এবং মা দুজনেই ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসে কর্মরত। দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন টিনা। অন্যদিকে কাশ্মীরের বাসিন্দা আতাহার হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আইআইটি থেকে বিটেক ডিগ্রি হাসিল করে আইএএস-এর প্রস্তুতিতে লেগে পড়েছিলেন। টিনা-র থেকে বয়সে এক বছরের বড় আতহার। 

আরও পড়ুন- বন্ধুর স্ত্রীকে পেতে বন্ধুকে খুন, মৃত দেহ ঘরে রেখেই রাত্রিযাপন বন্ধুর স্ত্রী -র সঙ্গে

মুসৌরিতেই টিনা ও আতহারের প্রেম শুরু হয়েছিল। রাজস্থান ক্যাডারে প্রথম ও দ্বিতীয় হওয়া টিনা এবং আতহার মুসৌরির আগে কোথাও মুখোমুখি হননি। তাঁদের বিয়েতে খোদ অতিথি হয়েছিলেন ভেঙ্কাইয়া নাইডু, সুমিত্রা মহাজন, রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো তাবড়-তাবড় রাজনীতিকরা। জয়পুর, পাহেলগ্রাম এবং দিল্লিতে রিসেপশন হয়েছিল টিনা ও আতহারের। জয়পুরে অতি সাধারণ কোর্ট ম্যারিজ করার পর, পাহেলগ্রাম-এ গিয়েছিলেন টিনা এবং আতহার। দিল্লিতেও হয়েছিল বড়সড় ভুরিভোজ। চাকরি জীবনের শুরুতেই টিনা ও আতহার জয়পুরেই পোস্টে়ড ছিলেন। কিন্তু, পরে টিনা বদলি হয়ে গিয়েছিলেন শ্রীগঙ্গানগরে জেলা পরিষদের সিইও হয়ে। অন্যদিকে আতহার জয়পুর জেলা পরিষদের সিইও-র পদ সামলাতে থাকেন। এমন এক পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছে টিনা ও আতহারের সম্পর্কের ভাঙনের খবর।