CAA Process: পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব চেয়ে যারা আবেদন করবেন, তাদের আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সামলাতে একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখেই নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি কমিটি তৈরি করে দিয়েছে, যারা নাগরিকত্বের জন্য জমা দেওয়া আবেদনপত্রগুলি খতিয়ে দেখবে। এই কমিটি গড়া হয়েছে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ এবং নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এর নিয়ম মেনে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখের একটি আদেশ অনুযায়ী, কেন্দ্র নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৬বি(১) এবং নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এর ১১এ ও ১৩এ নিয়ম অনুযায়ী এই কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে।
কমিটির সদস্যরা
এই কমিটির মাথায় থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ জনগণনা বিভাগের ডিরেক্টরেটের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল।
কমিটিতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকরা থাকবেন। যেমন:
সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর একজন আধিকারিক (পদমর্যাদা ভারত সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারির কম নয়)
সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (FRRO) মনোনীত একজন আধিকারিক (আন্ডার সেক্রেটারির পদমর্যাদার কম নয়)
ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের (NIC) রাজ্য ইনফরমেটিক্স অফিসারের মনোনীত একজন আধিকারিক (আন্ডার সেক্রেটারির পদমর্যাদার কম নয়)
পশ্চিমবঙ্গের পোস্টমাস্টার জেনারেল বা তাঁর মনোনীত কোনো ডাক বিভাগের আধিকারিক (পদমর্যাদা ভারত সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারির কম নয়)
এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সচিব বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের অফিসের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের একজন প্রতিনিধি এই কমিটিতে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে থাকবেন।
স্বারাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই কমিটির কাজের শর্তাবলী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১১ মার্চ, ২০২৪ তারিখের আদেশের মতোই থাকবে, যা ভারতের গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।
CAA প্রক্রিয়া
নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬বি অনুযায়ী এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন বা CAA-এর মাধ্যমে এই ধারাটি মূল আইনে যোগ করা হয়েছিল। এই আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। এই আইন কার্যকর করতে কেন্দ্র ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিস্তারিত নিয়মাবলী প্রকাশ করে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া, আবেদনপত্র যাচাই এবং জেলা ও রাজ্য স্তরের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হবে, তা স্পষ্ট করা হয়। এই এমপাওয়ারড কমিটিগুলোই আবেদনপত্র পরীক্ষা, নথি যাচাই এবং নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করার মূল দায়িত্বে থাকবে।
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবে এখানে দেশান্তরের ঘটনা ঘটেছে। তাই মনে করা হচ্ছে, ধারা ৬বি-এর অধীনে এই রাজ্য থেকে প্রচুর আবেদন জমা পড়তে পারে।
এই কমিটি গঠনের ফলে আবেদনপত্র যাচাই এবং যথাযথ তদন্তের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা, জনগণনা কর্তৃপক্ষ, বিদেশি নিবন্ধন কর্মকর্তা, ডাক বিভাগ এবং রাজ্যের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত হবে।


