ভারতের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করার লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত। প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ শুক্রবার ২.৩৮ ট্রিলিয়ন ব্যয়ে (প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনায় অনুমোদন দিয়েছে।
ভারতের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করার লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত। প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ শুক্রবার ২.৩৮ ট্রিলিয়ন ব্যয়ে (প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনায় অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে মাঝারি মানের পরিবহন বিমান, রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এবং ড্রোন।
একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য বিস্তৃত পরিসরের বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি’ (AoN) দেওয়া হয়েছে। ‘এক্স’ (X) প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে সিং উল্লেখ করেন যে, তিনি প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদের (DAC) সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন, যেখানে এই বিশাল পরিসরের প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই সিদ্ধান্তগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করবে। তিনি এ বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন যে, চলতি আর্থিক বছরে বিভিন্ন অনুমোদনের সংখ্যা এবং চুক্তির পরিমাণ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে।
'এক্স'-এ করা ওই পোস্টে সিং বলেন, "আজ আমি প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদের (DAC) বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছি, যেখানে আনুমানিক ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে 'প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি' (AoN) প্রদান করা হয়েছে। DAC-এর এই সিদ্ধান্তগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য 'এয়ার ডিফেন্স ট্র্যাকড সিস্টেম', 'আর্মর-পিয়ার্সিং ট্যাঙ্ক অ্যামুনিশন', 'হাই ক্যাপাসিটি রেডিও রিলে', 'ধনুষ গান সিস্টেম' এবং 'রানওয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট এরিয়াল সার্ভিল্যান্স সিস্টেম' সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।"
সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব
সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে পরিষদ এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হল তাদের অভিযানের প্রস্তুতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা। এর মধ্যে রয়েছে 'এয়ার ডিফেন্স ট্র্যাকড সিস্টেম'—যা রিয়েল-টাইমে (তাৎক্ষণিকভাবে) আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে; এবং 'হাই ক্যাপাসিটি রেডিও রিলে' ব্যবস্থা—যা নির্ভরযোগ্য ও সুরক্ষিত যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। এই অনুমোদনের তালিকায় আরও রয়েছে 'আর্মর-পিয়ার্সিং ট্যাঙ্ক অ্যামুনিশন'—যা ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী সক্ষমতা ও মারণক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। 'ধনুষ গান সিস্টেম'—যা উন্নত নির্ভুলতার মাধ্যমে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়াবে। এবং 'রানওয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট এরিয়াল সার্ভিল্যান্স সিস্টেম'—যা বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে উন্নত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি সহায়তা করবে।
বিমান বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি
মাঝারি পাল্লার পরিবহন বিমানের (Medium Transport Aircraft) অনুমোদনের ফলে বিমান বাহিনীতে বড় ধরনের আধুনিকীকরণ ঘটবে। এই নতুন বিমানগুলো বিমান বাহিনীর পুরনো হয়ে যাওয়া AN-32 এবং IL-76 বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং কৌশলগত ও রণকৌশলগত আকাশপথে পণ্য ও সেনা পরিবহনের (airlift) প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে। DAC (প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ) রাশিয়ার তৈরি S-400 দীর্ঘ পাল্লার ভূমি থেকে আকাশ মিসাইল সিস্টেম কেনায় অনুমোদন দিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদের উপর আঘাত হানতে সক্ষম অত্যাধুনিক হুমকিগুলোকে প্রতিহত করা।
এ ছাড়াও, বিমান বাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে 'রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফট' বা স্ট্রাইক ড্রোনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে হামলা চালানো যাবে। এছাড়াও গোয়েন্দাবৃত্তি, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের (ISR) মতো বিশেষ অভিযানগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে Su-30 যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের (aggregates) ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকীকরণ। আশা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপের ফলে বিমানগুলোর আয়ু বৃদ্ধি পাবে এবং বিমান বাহিনী সর্বদা প্রস্তুতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
উপকূলরক্ষী বাহিনী ও সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর (Indian Coast Guard) জন্য DAC ভারী ও শক্তিশালী 'এয়ার কুশন ভেহিকল' (Hovercraft)-এর অনুমোদন দিয়েছে। এই বিশেষ যানগুলো উপকূলীয় এলাকায় দ্রুতগতিতে টহলদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, নজরদারি এবং রসদ পরিবহনের কাজে সহায়তা করবে। যার ফলে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে DAC ইতিমধ্যেই ৫৫টি প্রস্তাবের জন্য 'প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন' (AoN) দিয়েছে, যার মোট মূল্য ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকা। তিনি এই বিষয়টিকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, চলতি অর্থবছরেই ৫০৩টি প্রস্তাবের জন্য ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকার সরঞ্জাম সংগ্রহের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যা এক অর্থবছরে স্বাক্ষরিত চুক্তির হিসেবে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। সাম্প্রতিক এই অনুমোদনগুলো আবারও প্রমাণ করে যে, পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলোর মুখেও সরকার সশস্ত্র বাহিনীগুলোর আধুনিকায়ন এবং দেশের নিজস্ব ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার বিষয়ে অবিচল ও নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ বজায় রেখেছে।


