Chalo Delhi Rally: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া জোটের 'চলো দিল্লি' মার্চে কেঁপে উঠল রাজধানী। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচন বানচাল করার জন্য জ্ঞানেশকে জেলে যেতে হবে। আর নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকেও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

Chalo Delhi Rally: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া জোটের 'চলো দিল্লি' প্রতিবাদ মিছিলে রবিবার, দেশের রাজধানী দিল্লি কার্যত, জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ইন্ডিয়া জোটের তরফে রামলীলা ময়দানে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয় (Chalo Delhi Rally)। কিন্তু রাজাজি মার্গ থেকে রামলীলা পর্যন্ত, তাদের এই র‍্যালি কার্যত এক বিশাল শক্তি প্রদর্শনে পরিণত হয়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর জ্বালাময়ী ভাষণের মধ্যে দিয়ে এই মেগা র‍্যালির সমাপ্তি টানেন। রাহুল গান্ধী তাঁর ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের

রাহুলের কড়া বার্তা

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতেই হবে। নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের পর ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। রাহুলের দাবি, ২০২৪ সালের নির্বাচন সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আরএসএস এখন বিচারব্যবস্থা সহ দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছে। মোদী এবং অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেন, “আপনাদের কোথাও যাওয়ার দরকার নেই, আমরাই আপনাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব।’ ভারতের জনগণ আজকের এই মেগা র‍্যালির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটা কড়া বার্তা দিয়েছে। এটাই আসল ভারতের কণ্ঠস্বর। আমরা গণতন্ত্রকে কিছুতেই শেষ হতে দেব না। কেউ সংবিধান ধ্বংস করতে পারবে না। আপনারা যতই শক্তিশালী হোন না কেন, গোটা ভারত আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেই। ওরা একাধিক রাজ্যে ভোট লুট করেছে। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ইভিএম—সব জায়গাতেই ওরা কারচুপি করেছে। ২০২৪ সালের পর, ওরা ১৩ কোটি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। তাই ২০২৪ সালের নির্বাচন পুরোপুরি বেআইনি। এই জালিয়াতির জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে অবশ্যই জেলে যেতে হবে।"

তারপরেই তিনি যোগ করেন, "এটা সাধারণ কোনও চুরি নয়, একেবারে বিরলতম ঘটনা। ওরা দেশের সব প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছে। আরএসএস বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবকিছু নিজেদের দখলে নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মোদী বা অমিত শাহের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। সরকার দেশের সব সম্পদ আদানি আর আম্বানির হাতে তুলে দিয়েছে। ওরা আদানি-আম্বানিকে কোটি কোটি টাকার সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। এই সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকেও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের সব ক্ষেত্রই আজ বিপর্যস্ত। ওরা জ্ঞানেশ কুমারের মাধ্যমে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করেছে। মোদীকে আটকাতে হলে আমাদের সবার আগে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে হবে। মোদী আর অমিত শাহকে কোথাও পালাতে হবে না, আমরাই তাদের আইনের সামনে আনব। আমরা হিংসার পথে হাঁটব না। আমরা শান্তির পথেই দেশের সংবিধান রক্ষা করব। আমাদের 'ভালোবাসার দোকান' সবসময় খোলা থাকবে, রাহুল যোগ করেন। জ্ঞানেশ কুমার দেশের সঙ্গে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এর জন্য তাঁকে শাস্তি পেতেই হবে। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আমরা ভালোবাসার পথেই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছব।"

দিল্লিতে মেগা শক্তি প্রদর্শন

ইন্ডিয়া জোট জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ রামলীলা ময়দানে করবে বলে ঠিক করেছিল। কিন্তু রাজাজি মার্গ থেকে রামলীলা পর্যন্ত তাদের এই মিছিল কার্যত এক বিশাল শক্তি প্রদর্শনে রূপ নেয়। শীর্ষ নেতারা মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে খোলা গাড়িতে করে রামলীলার দিকে এগিয়ে যান। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক কনট প্লেসের মিন্টো রোড থেকে নেতাদের গাড়ির সঙ্গে পা মেলান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ফারুক আবদুল্লাহ, এম এ বেবি, ডি রাজা, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন, তেলেঙ্গানা ও হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রীরা এই মিছিলে পা মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যকে আরও মজবুত করেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ এবং অগণিত কর্মীর ভিড়ে রাজধানী আক্ষরিক অর্থেই কেঁপে ওঠে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।