প্রতীক্ষার অবসান। সবকিছু ঠিকঠাক চললে শনিবার ভোর ১.৩০ থেকে ২.৩০-এর মধ্যে চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণ করবে। ১টা বেজে ৪০ মিনিট নাগাদ শুরু হবে সফ্ট ল্যান্ডিং প্রক্রিয়া। ১৫ মিনিটের এই 'পাওয়ার্ড ডিসেন্ট' বা 'নিয়ন্ত্রিত অবতরণ'-কে ইসরোর বিজ্ঞানীরা বলছেন '১৫ মিনিটের আতঙ্ক'। সব পরিকল্পনা মাফিক চললে ইতিহাস গড়বে ভারত, আর না হলে ১৩০ কোটি দেশবাসীর স্বপ্নের মহাকাশ সমাধি ঘটবে।

গত ২২ জুলাই রওনা হয়েছিল চন্দ্রযান। তারপর থেকে একমাসের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। সেইদিন থেকে নাওয়া খাওয়া ভুলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা বেজ্ঞালুরুর মিশন অপারেশন কমপ্লেক্সে পড়ে রয়েছেন। কখনও চন্দ্রযান ২-এর জন্য সঠিক কক্ষপথ গণনা করছেন, তারপর কম্পিউটারে সিমুলেশন তৈরি করে তা কতটা কার্যকরী তা পরীক্ষা করে দেখছেন, তারপর হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা চন্দ্রযান ২-কে সেই কক্ষপথে বসানোর কাজ করেছেন। এতদিনের সেই পরিশ্রম এদিন সফল করার পালা।

আরও পড়ুন - গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চান, জেনে নিন কোথায় কীভাবে দেখবেন চন্দ্রযান ২-এর অবতরণ

আরো পড়ুন - চাঁদের মাটি ছোঁবে চন্দ্রযান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে দেখবে বর্ধমানের ইউসারা

আরো পড়ুন - চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে 'ল্যান্ডার বিক্রম', সফল হল দ্বিতীয় ডি-অরবাইটিং

স্বাভাবিকভাবেই দারুণ চাপ ও উত্তেজনায় সময় কাটছে ইসরোর বিজ্ঞানীদের। ইসরো প্রধান কে শিবান জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য শনিবার ভোরবেলায় অতরণের ১৫টা মিনিট দারুণ আতঙ্কের মুহূর্ত। প্রত্যেকের চোখ তাদের কনসোলে আঠার মতো সেঁটে থাকবে। এখনও পর্যন্ত টেলিমেট্রি প্যারামিটার বলছে সবকিছু একেবার ঠিকঠাকভাবেই চলছে। কিন্তু পরের মুহূর্তেই কী হবে, তা কেউ জানে না। সামান্য ভুলচুকেই বড় খেসারত দিতে হতে পারে। তাই প্রত্যেকটা মুহূর্তই এখন তচাঁদের প্রচন্ড উদ্বেগের মধ্যে কাটছে।   

গত ২০ অগাস্ট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল চন্দ্রযান ২। ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযানে এখনও পর্যন্ত সেটিই ছিল সবচেয়ে কঠিন ধাপ। একটু হিসেবে গন্ডোগোল হলেই চাঁদের অভিকর্ষ শক্তির টানে পড়ে যেতে পারত চন্দ্রযান ২। তারপর এদিন দ্বিতীয় কঠিনতম পরীক্ষা তথা চুড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে চলেছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।