উৎক্ষেপণের ৫৬মিনিট আগে থমকে গিয়েছিল উড়ান।  তবে কি এখানেই ইতি? প্রশ্নচিহ্নে্র মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল  চন্দ্রযান প্রকল্প। একরাশ উৎকণ্ঠাকে সঙ্গী করে তাকিয়েছিল গোটা দেশ।  অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইসরোর তরফ থেকে সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হল জুলাই-এর শেষের দিকেই উৎক্ষেপণ হবে গর্বের চন্দ্রযানের।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, যে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল গোটা পরিকল্পনা, সেটিকে সারানো সম্ভব হয়েছে। তার ফলে জুলাইয়ের শেষেই মহাশূন্যে পাড়ি জমাতে পারবে চন্দ্রযান ২। 
ঠিক ছিল ১৫ জুলাই রাত্রি দুটো বেজে একান্ন মিনিটে  উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে চাঁদের উদ্যেশ্যে পাড়ি জমাবে চন্দ্রযান। 'টি মাইনাস' ৫৬.২৪, অর্থাৎ মাহেন্দ্রক্ষণের ছাপ্পান্ন মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে ধরা পড়ে যান্ত্রিক গোলযোগ। সম্পূর্ণ প্রকল্পের সলিল-সমাধি রুখতে তৎক্ষণাৎ উৎক্ষেপণ বাতিল করে ইসরো।  

ইসরোর তরফ থেকে বি আর গুরুপ্রসাদ জানিয়েছিলেন 'টি মাইনাস' ৫৬ মিনিটে একটি যান্ত্রিক গোলযোগ তাদের নজরে আসে। সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা হিসেবে অনির্দিষ্টকালের জন্য চন্দ্রযান ২ অভিযান মুলতুবি রাখা হয়েছে। ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে চন্দ্রযান ২। মূলত মেরু অঞ্চলের ৫০০ মিটার ভূপৃষ্ঠের মাটির ওপর গবেষণা চালাবে প্রজ্ঞান বলে একটি ল্যান্ড রোভার।   'এভ্যেঞ্জার্স এন্ডগেম' এর থেকেও স্বল্পমূল্যের , ৯৭৮ কোটি টাকার চন্দ্রযান ২ প্রকল্প সম্পূর্ণ ভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ইসরোর সর্ববৃহৎ প্রকল্প চন্দ্রযান ২ সফল হলে ভারত পৃথিবীর চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। 

এর আগে মাত্র তিনটি দেশ- সোভিয়েত রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং গণ-প্রজাতন্ত্রী চিন সফল চন্দ্র অভিযান করতে সমর্থ হয়েছে। জিএসএলভি এমকে ৩ রকেটের পিঠে চড়ে চাঁদের উদ্যেশ্যে পাড়ি জমাবে স্বপ্নের চন্দ্রযান ২। এর আগেও ইসরো এই জিএসএলভি এমকে  ৩ রকেট ব্যাবহার করে সফল ভাবে বহু কৃত্রিম উপগ্রহের উৎক্ষেপণ করেছে।