দিনভর লোকসভায় প্রবল হইহট্টগোল, বিতর্কের পর অবশেষে সোমবার মাঝরাতে পাশ হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। বিলের পক্ষে ভোট পরে ৩১১ টি। আর বিলের বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ৮০ টি। বিলকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করা ছাড়াও বিরোধীরা যে যে আপত্তি তুলেছিলেন, তার সবই এ দিন বড় ব্যবধানে খারিজ হয়ে যায় লোকসভায়। এবার রাজ্যসভাতেও এই বিল পাশ করানোটা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। 

বিল পাশ করাতে গিয়ে নিজের বক্তব্যে অমিত শাহ বার বারই দাবি করেছেন, এই বিল কোনওভাবেই সংখ্যালঘু বিরোধী নয়। যেহেতু পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু নয়, সেই কারণেই এই বিলের মধ্যে শরণার্থী হিসেবে তাঁদের নাম রাখা যায়নি বলে দাবি করেন শাহ। বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই তিন দেশ থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী যে শরণার্থীরা এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান- এই তিন দেশেই ধর্ষণ, ধর্মান্তকরণ, সম্পত্তি নষ্ট করা, ধর্মীয় স্থানে হামলা চালানোর মতো অপরাধের শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা।  সেই কারণেই এ দেশে তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার কথা ভেবেছে সরকার। অমিত শাহ আরও যুক্তি দেন, ভারতে মুসলিম জনসংখ্য়া ক্রমশ বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা ধাপে ধাপে হ্রাস পেয়েছে। নতুন আইন কোনওভাবেই সংবিধানের চোদ্দ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের চোখে সবার সমানিধারের শর্ত ভঙ্গ করেনি বলেও দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পর এনআরসি-কেও বিল আকারে নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর মোদী সরকার।