দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড় ও বিধিনিষেধ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট ও তার আশপাশের এলাকায় জারি করা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না।

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড় ও বিধিনিষেধ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট ও তার আশপাশের এলাকায় জারি করা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। একই সঙ্গে আদালত চত্বরে যাতায়াত এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে যেন কোনও বাধা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় বিধিনিষেধ জারির বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। আদালতের নির্দেশ, এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য কোনও আদালতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাধা কিংবা আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি না হয়।

বিক্ষোভের অধিকার আছে, তবে মানতে হবে আইন

কক্‌রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভের ডাক ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও যাতায়াত নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে শীর্ষ আদালত। আদালত জানিয়েছে, মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার রয়েছে। তবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হবে আইন মেনে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তসাপেক্ষে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু বিক্ষোভের পদ্ধতি অবশ্যই পুলিশের আইন ও বিধির আওতায় থাকতে হবে। আবেদনকারীকে বেঞ্চ মনে করিয়ে দেয়, বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার পুলিশি আইনকানুনের ঊর্ধ্বে নয়।

মেট্রো ও ট্রেন চলাচল বন্ধ নিয়ে প্রশ্ন

এর আগে শুক্রবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের কারণে দিল্লিতে আসা মেট্রো ও ট্রেন চলাচল যেন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া না হয়। আদালতের বক্তব্য ছিল, বিক্ষোভের কারণে সবকিছু স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না।

কিন্তু অভিযোগ, এরপরও মেট্রো স্টেশনগুলি বন্ধ রাখা হয়েছিল। আবেদনকারী ও আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই পদক্ষেপকে আদালত অবমাননা বলে দাবি করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নোটিশ

আটক এবং বিক্ষোভের সময় তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বেঞ্চ। আদালত আরও জানিয়েছে, আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। তবে কোনও বিষয়ে উদ্বেগ থাকলে আইনজীবীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে উস্কানি দেওয়া বা জনজীবনে অশান্তি তৈরি করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

SIR নিয়ে বিক্ষোভ, নিশানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে CJP-সহ বিরোধী দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে। সেই দাবিতেই দিল্লিতে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের আটক, যাতায়াতে বিধিনিষেধ এবং মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের নজরে। মঙ্গলবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট জমা পড়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।