Chalo Delhi Ramlila March: গণতন্ত্র ও সংবিধান বাঁচাতে আগামী ১ নভেম্বর 'চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ'-এর ডাক দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। 'ভোট চুরি' রুখতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার আগামী ১ নভেম্বর 'চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ'-এ যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছেন। যাঁরা গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করতে চান, তাঁদের এই মিছিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র বাঁচাতে, 'ভোট চুরি' রুখতে এবং সংবিধানের সুরক্ষায় এই আন্দোলন।

রাহুল এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মিছিলের মূল লক্ষ্য হল ভোট চুরি আটকানো। এর সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই।

ভিডিওতে রাহুল বলেন, "চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ আসলে গণতন্ত্র বাঁচানোর, ভোট চুরি রোখার এবং সংবিধান রক্ষার একটা লড়াই। এটা কোনও একটা দলের মিছিল নয়, এটা ভারতের আত্মার মিছিল। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমারের ওপর যাঁরা তিতিবিরক্ত, যাঁরা গণতন্ত্র ও সংবিধান বাঁচাতে চান, তাঁরা সবাই আসুন।"

রাহুল গান্ধীর টুইটঃ

'নমস্কার। চলো দিল্লি! রামলীলা ময়দানে মার্চ। গণতন্ত্রকে বাঁচানোর, ভোট চুরি রোখার এবং সংবিধান রক্ষার এই মিছিল। এটি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের মিছিল নয়, বরং এটি ভারতের আত্মার মিছিল।

যাঁরা নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমারের উপর ক্ষুব্ধ, যাঁরা গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চান, সংবিধান রক্ষা করতে চান, তাঁদের সকলকে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এটাই একমাত্র প্রতিবাদ—এটা গোটা দেশের প্রতিবাদ।

পুলিশ বা লাঠিচার্জ নিয়ে চিন্তা করবেন না। বিজেপির এত সাহস হবে না যে তারা এ ধরনের কোনও কাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করবে। আসুন, আমাদের সঙ্গে হাঁটুন। সংবিধান রক্ষা করতে, ভারতীয় রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে আমরা একসঙ্গে পথে নামব।

ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আমি সমস্ত ছাত্র সংগঠনকে আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা যে রাজনৈতিক মতাদর্শেই বিশ্বাস করুন না কেন, যদি মনে করেন ভারত আক্রান্ত, যদি মনে করেন আপনাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তাভাবনা এবং নিজস্ব আদর্শের উপর আঘাত আসছে, তা হলে এই মিছিলে যোগ দিন।

এই মিছিল হবে অসাধারণ। এটি এই দেশের আত্মাকে রক্ষা করার মিছিল। আপনাদের সকলের সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম।'

রাহুল গান্ধী সাধারণ মানুষকে পুলিশের পদক্ষেপে ভয় না পাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "পুলিশ বা লাঠিচার্জ নিয়ে একদম ভাববেন না। বিজেপির এত সাহস নেই যে তারা কোনও চালাকি করবে। আমাদের সঙ্গে মিছিলে হাঁটুন। সংবিধান ও দেশকে বাঁচাতে আমরা একসঙ্গে পা মেলাব। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটা দেশের মিছিল, আপনাদের মিছিল। আপনারা সবাই আসুন, আমরা একসঙ্গে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা করব।"

কংগ্রেস নেতা সমস্ত ছাত্র সংগঠনকেও রাজনৈতিক মতাদর্শ সরিয়ে রেখে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "আপনাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমি সব ছাত্র সংগঠনকে অনুরোধ করছি। যদি আপনাদের মনে হয় যে ভারতের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, আপনাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, আপনাদের মতপ্রকাশ, চিন্তাভাবনা বা ধারণার ওপর আঘাত আসছে, তবে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। এটা একটা দারুণ মিছিল হতে চলেছে, দেশের আত্মার জন্য এই মিছিল। আপনাদের সবার অপেক্ষায় রইলাম।"

কংগ্রেস আগামী ১ নভেম্বর রাজধানীর রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের মেগা র‍্যালির মাধ্যমে বড়সড় শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুক্রবার বিরোধী সাংসদরা একটি 'মক পার্লামেন্ট' বা ছায়া সংসদের আয়োজন করেছেন। সেখানে তাঁরা প্রতীকীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে 'ইমপিচ' করার পরিকল্পনা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সেই প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করছেন। এই ছায়া সংসদের পরেই ১ নভেম্বরের মেগা র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে।