যা শুরু হয়েছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচার হিসেবে, তা এখন অনলাইন লড়াইয়ের ময়দানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির তরুণ সমাজকে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ, বিদ্রূপ এবং অনলাইন হাস্যরসের মিশেলে জন্ম নেওয়া 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP), মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই ১ কোটি অনুসারীর মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
যা শুরু হয়েছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচার হিসেবে, তা এখন অনলাইন লড়াইয়ের ময়দানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির তরুণ সমাজকে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ, বিদ্রূপ এবং অনলাইন হাস্যরসের মিশেলে জন্ম নেওয়া—এবং মূলত 'মিম' (meme) নির্ভর—একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন, 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP), মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) অনুসারীর মাইলফলক অতিক্রম করেছে; এর ফলে এই প্ল্যাটফর্মে তারা বিজেপি-কেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। এমন একটি দেশে যেখানে রাজনৈতিক আধিপত্য দশকের পর দশক ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে এই অনলাইন-ভিত্তিক দলটি কেবল বিদ্রূপ, 'রিলস' (reels) এবং ভাইরাল ক্ষোভকেই সম্বল করে ক্ষমতাসীন দলকেও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

@cockroachjantaparty হ্যান্ডেলের অধীনে পরিচালিত এই অ্যাকাউন্টটি বৃহস্পতিবার ১ কোটি ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করে। এর বিপরীতে, বিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @bjp4india-এর বর্তমান ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৮৭ লক্ষ (৮.৭ মিলিয়ন), অন্যদিকে কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট @incindia প্রায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ (১৩.২ মিলিয়ন) ফলোয়ার নিয়ে এখনও এগিয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত 'আম আদমি পার্টি' (AAP)-এর ফলোয়ারের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৯ লক্ষ (১.৯ মিলিয়ন)।
অনেকেই যোগ দিয়েছেন
'ককরোচ জনতা পার্টি'-র সমর্থক বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের তালিকায় রাজনীতিবিদ এবং রাজনীতি-বহির্ভূত—উভয় শ্রেণিরই ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি এবং প্রবীণ সমাজকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর নেত্রী মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদও 'ককরোচ জনতা পার্টি'-তে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রবীণ আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ CJP-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তাদের অনুসারীদের এই বিপুল সংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে 'নিট' (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি জোরালভাবে তুলে ধরে।
X (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে ভূষণ লিখেছেন, "মাত্র ৪ দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে 'ককরোচ জনতা পার্টি' ১ কোটি ৩ লক্ষ (১০.৩ মিলিয়ন) ফলোয়ার অর্জন করেছে, যা বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যার চেয়েও বেশি। যদি বিচক্ষণতা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে এই আন্দোলনকে পরিচালনা করা যায়, তবে এর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্যই, তাদের উচিত 'নিট' প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উত্থাপন করা এবং এ বিষয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের জবাবদিহিতা দাবি করা।"
তিনি CJP-এর প্রতি কর্মসংস্থানের অধিকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি আরও যোগ করেন, "এখন সময় এসেছে 'কর্মসংস্থানের অধিকার আইন'-এর দাবি তোলার। ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সের সকল মানুষেরই ন্যূনতম মজুরিতে হলেও কর্মসংস্থানের অধিকার থাকা উচিত। আর যদি তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, তবে তাদের অবশ্যই বেকারভাতা দিতে হবে।"
তবে এ ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তাও রয়েছে। অনলাইনে ফলোয়ার সংগ্রহ করা আর মানুষকে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলের সদস্যপদ মূলত বাস্তব ময়দানে বা তৃণমূল পর্যায়ে উপস্থিতিরই ইঙ্গিত বহন করে।
'ককরোচ জনতা পার্টি'র (Cockroach Janata Party) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে কে?
ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত ভারতীয় যুবসমাজের একাংশ সম্পর্কে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রতিবাদে একটি ব্যঙ্গাত্মক যুব আন্দোলন হিসেবে গত ১৬ মে অনলাইনে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে 'সিজেপি' (CJP)-এর প্রচারভিযান। গত ১৫ মে একটি শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি এক আইনজীবীর সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "এমন কিছু তরুণ রয়েছে—যারা আরশোলার (cockroaches) মতো। তারা কোনও কর্মসংস্থান পায় না কিংবা পেশাগত ক্ষেত্রে তাদের কোনও স্থান নেই। এদের কেউ কেউ সংবাদমাধ্যমের আশ্রয় নেয়। কেউ বা সোশ্যাল মিডিয়া, আরটিআই (RTI) কর্মী কিংবা অন্যান্য সমাজকর্মীর ভূমিকা নেয় এবং এরপর তারা সবার উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করে।"
এই মন্তব্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং ‘CJP’ নামক একটি আন্দোলনের সূচনা করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। মঙ্গলবার ‘ইন্ডিয়া টুডে টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিপকে বলেন, “আমার মনে হয়, এই মন্তব্যগুলো আরও বেশি ক্ষোভের সঞ্চার করেছে কারণ এগুলো এসেছে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে—যিনি আমাদের সংবিধানের রক্ষক এবং যে সংবিধান আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান করে। যিনি আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত, তিনিই কি না কেবল নিজেদের মতামত তুলে ধরার অপরাধে আমাদের আরশোলা ও পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করছেন। বিষয়টিই ছিল সবচেয়ে বেশি পীড়াদায়ক।”
দিপকে আরও যুক্তি দেন যে, যদি রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে একই ধরনের মন্তব্য আসত, তবে হয়তো প্রতিক্রিয়া এতটা তীব্র হতো না। দিপকে আরও যোগ করেন, “যদি ক্ষমতাসীন দলের অন্য কোনও সদস্য এই মন্তব্যটি করতেন—যা তারা সচরাচর করেই থাকেন—তবে হয়তো বিষয়টি নিয়ে এতটা তোলপাড় সৃষ্টি হতো না। কিন্তু এই মন্তব্যটি এসেছে এমন একজনের কাছ থেকে, যার মূল দায়িত্বই হল আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেওয়া।”


