ভারতের পরিস্থিতি যাতে শ্রীলঙ্কার মত না হয়। সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবগত করলেন কেন্দ্রীয় আমলার। তাঁরা মোদীর সঙ্গে প্রায় ৪ ঘণ্টা বৈঠক করেন

দেশের পরিণতি শ্রীলঙ্কার মত ভয়াবহ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন দেশের একদল অভিজ্ঞ আমলা। তাঁরা মূলত বেশ কিছু রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন ওই প্রকল্পগুলি আর্থিকভাবে তেমন কার্যকর নয়। কিন্তু বেশ কয়েকটি রাজ্য এই প্রকল্পগুলি চালিয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক লাভ তোলার জন্য। তেমনই জানিয়েছে একটি সূত্র। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শনিবার লোককল্যাণ মার্গে ৭ নম্বর ক্যাম্প অফিসে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধাননন্ত্রী। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব পিকে মিশ্র। মন্ত্রিপরিষদের সচিব রাজীব গৌড়া। আর ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের সব দফতরের প্রধান সচিবরা। ২০১৪ সাল থেকেই সচিবদের এজাতীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

 এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন তিনি। সেই বৈঠকেই আর্থিকভাবে দুর্বল দুই রাজ্য সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে ঘোষণা করা দুটি জনপ্রিয় প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। অন্যান্য রাজ্যও এজাতীয় প্রকল্প ঘোষণার পরিকল্পনা করছে বলেও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সূত্রের খবর দুই সচিব বলেন সেই প্রকল্পগুলি আর্থিকভাবে তেমন লাভের নয়। কিন্তু ওইজাতীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যগুলিকে শ্রীলঙ্কার পথে নিয়ে যেতে পারে। 


সূত্রের খবর বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সচিবদের দেশের উন্নয়নের দিকে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। দারিদ্রতা দূর করার কারণ দেখিয়ে রাজ্যগুলি যাতে এজাতীয় প্রকল্প চালু না করে তার দিকেও সচিবদের নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এজাতীয় পুরনো অভ্যাস পরিত্যাগ করে সুপরিকল্পিত পথ অবলম্বন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, তেমনই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক। 

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার প্রবল আর্থিক সংকট চলছে। দেশে ওষুধ ও দুধের মত প্রয়োজনীয় জিনিসগুলির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। চাল-ডালের মত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নেই কেন্দ্রীয় ভাঁড়াড়ে। গ্যাসের বদলে মানুষ কেরোসিন দিয়ে রান্না করেছে। অনেকের বাড়িতে খাবার জিনিস নেই। পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে কাগজের অভাবে। যদিও পাশে দাঁড়িয়ে ভারত জ্বালানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাঠিয়েছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। শ্রীলঙ্কায় জারি করা হয়েছে কার্ফু। মানুষদের বাড়ির বাইরে বার হতে নিষেধ করা হয়েছে।