জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বিনামূল্যে করোনা টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা মাত্রই শোরগোল গোটা দেশ জুড়ে। নতুন টিকাকরণ নীতি নিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তবে এই কটাক্ষের রাজনীতি করতে গিয়ে এবার বিপাকে পড়তে হল কংগ্রেসকে। কার্যত জাতীয় রাজনীতিতে মুখ পুড়ল হাত শিবিরের। প্রধানমন্ত্রীর ভ্যাকসিনেশন নিয়ে ঘোষণার পরেই প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের একটি ট্যুইট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। 

 

সোমবারই ঘোষণার পরে ট্যুইট করেন চিদাম্বরম। তিনি সমালোচনায় সরব হন। এই কংগ্রেস নেতা বলেন কেন্দ্রীয় সরকার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার দুটি ভুল করেছে। আর তা সংশোধন করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ভুল করে বিরোধীদের দোষারোপ করছেন বলেও অভিযোগ করেন চিদম্বরম। 

চিদাম্বরম বলেন কেন্দ্রের এই ঘোষণা কেবল ধোঁকা দেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রী তার ভুলের জন্য বিরোধীদের দোষ দিয়েছেন। চিদাম্বরমের প্রশ্ন ছিল কোন রাজ্য বা কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে থেকে ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া চালাবার দাবি করেছিল, তার নাম সামনে আনুক কেন্দ্র। অহেতুক দোষারোপ করা বন্ধ করুন প্রধানমন্ত্রী। এরপরেই চিদাম্বরমের বিবৃতির প্রেক্ষিতে একটি টুইট করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এর জবাব দেন। 

তিনি নিজের ট্যুইটে রাহুল গান্ধীর একটি চিঠি জুড়ে দেন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সুহাস নামের একজন লেখকের টুইটকে পুনঃটুইট করেন এবং লিখেছেন যে রাহুল গান্ধী নিজেই একবার রাজ্য দ্বারা ভ্যাকসিন সংগ্রহের দাবি উত্থাপন করেছিলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান টুইটটিতে রাহুল গান্ধী এবং আনন্দ শর্মাকেও ট্যাগ করেছেন।

 

আনন্দ শর্মাও রাজ্যগুলিতে ভ্যাকসিন কেনার দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাহলে চিদাম্বরম যে দাবি করছেন তার ভিত্তি কী। কারণ চিদাম্বরমের দাবি কংগ্রেসের কোনও শীর্ষস্থানীয় পদাধিকারী রাজ্য দ্বারা ভ্যাকসিনেশনের দাবি জানায়নি। অথচ রাহুল গান্ধী নিজে চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি জানিয়ে ছিলেন। তাহলে কী রাহুল গান্ধী ও আনন্দ শর্মা কংগ্রেসে বড় মাপের নেতা নন, প্রশ্ন করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। 

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সোমবার ঘোষণায় জানান, এখন আবার বেশ কয়েকটি রাজ্য বলছে, টিকাকরণের আগের নীতিই ভালো ছিল। অর্থাৎ, কেন্দ্র  টিকা সংগ্রহ করে রাজ্যে রাজ্যে সরবরাহ করুক, এমনটাই চাইছিলেন বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই ফের কেন্দ্র টিকাকরণের নীতি বদলাচ্ছে। ২১ জুন থেকে আর রাজ্যের হাতে থাকবে না টিকাকরণের বিষটি। ফের সম্পূর্ণ দায়িত্ব  নিচ্ছে কেন্দ্র। টিকা নির্মাতাদের থেকে তাদের উৎপাদনের ৭৫ শতাংশ কিনবে কেন্দ্র। আর রাজ্য সরকারগুলির মাধ্যমে সেই টিকা, ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী সকলে বিনামূল্যে টিকা পাবে।

তবে এরপরও কেউ যদি পয়সা খরচা করে কোভিডের টিকা নিতে চান, সেই বিকল্পও খোলা রাখা হচ্ছে। ২৫ শতাংশ করোনা টিকা, নির্মাতাদের  কাছ থেকে সরাসরি কিনতে পারবে যে কোনও বেসরকারি সংস্থা। অর্থাৎ প্রাইভেট হাসপাতালগুলি চাইলে নির্মাতাদের কাছ থেকে সেই টিকা কিনে, অর্থের বিনিময়ে দিতে পারবে।

প্রকৃতপক্ষে, রাজ্য সরকারের দাবিতে, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে ভ্যাকসিন উত্পাদনের ২৫ শতাংশ কেনার অধিকার দিয়েছিল। ১ মে বাস্তবায়িত নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন কিনে এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সী ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী- করোনা যোদ্ধাদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছিল।