সনিয়া গান্ধী নয়,  বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রথমে কংগ্রেসের উচিৎ একজন দীর্ঘ মেয়াদী সভাপতি খুঁজে বার করা। কেরলের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের এই মন্তব্যের পর জল্পনা উস্কে দিল কংগ্রেসের সভাপতি নিয়ে। 

তবে এটুকু বলেই থেমে থাকেননি শশী থারুর। তিনি বলেছেন গতবছর লোকসভার নির্বাচনে হারের দায় স্বীকার করে রাহুল গান্ধী সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন। তারপর অন্তবর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সনিয়া গান্ধী।  কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব সামলাবেন তা ভেবে নেওয়া ঠিক নয়। তাই অবিলম্বে কংগ্রেস নতুন সভাপতি খুঁজে বার করা প্রয়োজন। আর সেই কাজ এখনই না করলে আরও পিছিয়ে পড়বে শতাব্দী প্রাচিন এই দলটি। 

শশী থারুরের কথায়, বর্তমানে এদেশে সংবাদ মাধ্যমের দ্বারাই পরিচালিত হয় জনগণের ধারনা। আর সেই জনগণের মন পেতে গেলে কংগ্রেসকে এখন থেকেই অবিচলভাবে জাতীয় বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। অযৌক্তিকতাকে সায় দিলে চলবে না। তাঁর কথায় আগামী ১০ অগাস্ট অন্তবর্তীকালীন সভানেত্রী হিসেবে এক বছরের মেয়াদ শেষ করবেন সনিয়া গান্ধী। তাই আর দেরি করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

শশী থারুর কথায় কোন পদ্ধতিতে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে তা নিয়েও দলের নেতৃত্বের স্পষ্ট ধারনা থাকা উচিৎ। আর সেই কারণেই তিনি আস্থা রেখেন রাহুল গান্ধীর ওপর। 

শশী থারুর মনে করেন দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা আর দক্ষতা দুটি অর্জন করেছেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু তিনি যদি কংগ্রেসর মুখ না হতে চান তাহলে অবিলম্বে নতুন সভাপতি খুঁজে বার করতে হবে। 

শশীর থারুরের এই মন্তব্যের পরই আবারও সামনে আসছে কংগ্রেসের নবীন বনাম প্রবীনের লড়াই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী দলের দায়িত্ব নিলে রীতিমত উদ্বেগ বাড়বে দলের প্রবীন সদস্যদের মধ্যে। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার দলত্যাগ আর শচীন পাইলট ইস্যুতে যা কিছুটা হলেও নবীন প্রবীনের দ্বন্দ্বের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। 

আবার অন্যদিকে সনিয়া গান্ধী সভাপতির পদে থাকতে আগ্রহী নয়। কিন্তু সভাপতি হতে এখনও পর্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেননি রাহুল গান্ধী। এই পরিস্থিতিতে শশী থারুর জানিয়েছেন বর্তমানে রাহুল গান্ধী একমাত্র কংগ্রেস নেতা যিনি প্রতিপদক্ষেপে সরকারের সমালোচনা করে যাচ্ছে। যার জেরে কিছুটা হলেও তাল কাটছে মোদী সরকারের। 

এই পরিস্থিতিতে রাহুল যদি সভাপতি না হন তাহলে কী সভাপতি খুঁজতে নির্বাচনের পথে হাটবে কংগ্রেস ? যা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিধ্বস্ত শতাব্দী প্রাচিন দলটির দায়িত্ব তুলে নিতে কেউই তেমনভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।