Women's Reservation: কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল কেন্দ্রকে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, লোকসভার আসন সংখ্যা না বাড়িয়ে বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩' কার্যকর করা হোক। 

কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল শুক্রবার কেন্দ্রকে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ প্রত্যাহার করার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, লোকসভার আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩' কার্যকর করা হোক। যদি লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে সরকার ব্যর্থ হয়, তবে কেন্দ্রের উচিত বিলটি প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং ২০২৭ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

কংগ্রেসের আর্জি

সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বেণুগোপাল সরকারকে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আর্জি জানান। তিনি বলেন, বিরোধী দল মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের রূপায়ণে সমর্থন করবে।

তাঁর কথায়, "ওঁরা (সরকার পক্ষ) একটা সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক, এই বিলটা তুলে নিক। আমরা বর্তমান ৫৪৩টা আসনেই মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের পূর্ণ রূপায়ণে রাজি আছি। যদি আপনারা মহিলাদের স্বার্থ রক্ষা করতে চান, এটাই সেরা উপায়। মহিলাদের সংরক্ষণের নামে আপনারা গণতন্ত্রকে হাইজ্যাক করতে চাইছেন, সেটা আমরা হতে দেব না।"

২০২৩-এর বিল এখন কেন?

'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম'-এর সংশোধনীটি গত রাতে নোটিফাই করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "২০২৩ সালের আইনটি গতকাল রাতে নোটিফাই করা হয়েছে। ওঁরা নারী ক্ষমতায়নের কথা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নাটকও আমরা দেখেছি, কিন্তু ২০২৩ সালের আইনটি ওঁরা গত রাতে নোটিফাই করলেন। যদি ওঁদের সততা থাকত, তাহলে এত দেরি কেন হল? আপনারাই মহিলা সংরক্ষণ বিল দেরি করিয়েছেন, যা এটাই প্রমাণ করে।"

প্রসঙ্গত, সংসদের নিম্নকক্ষে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯২টি আসন। কিন্তু সাংবিধানিক সংশোধনী পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ৩৬২টি আসনের প্রয়োজন। যদি কেন্দ্র বিলটি প্রত্যাহার করে, তবে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই ডিলিমিটেশন করা সম্ভব। এবং ২০২৭ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা যেতে পারে।

কংগ্রেসের আরেক সাংসদ হিবি ইডেনও লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে একরকম শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা যদি মহিলা সংরক্ষণ বিলকে রাজনৈতিকভাবে দেখতাম, তাহলে ২০২৩ সালে সর্বসম্মতিক্রমে এটি পাশ করতাম না। প্রধানমন্ত্রী যা বলছেন, তাতে যদি তাঁর সততা থাকত, তাহলে তিনি এটা ২০২৪ সালেই কার্যকর করতেন। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ আইনের আড়ালে একটা গোপন এজেন্ডা রয়েছে, আর সেটা হল ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটি অবৈজ্ঞানিক এবং যে রাজ্যগুলো ১৯৭৬ সালের পর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ভালো কাজ করেছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এটা ভারতের সংবিধান এবং দেশের সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর একটি নির্লজ্জ আক্রমণ।"

আজ ভোটাভুটি?

আজ লোকসভায় সংবিধান (একশো একত্রিশতম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এর সঙ্গেই রয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ এবং ডিলিমিটেশন বিল, যার মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ পর্যন্ত বাড়ানো এবং পুনর্বিন্যাস করার প্রস্তাব রয়েছে।