কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, সংসদের বাদল অধিবেশনে সরকার আবার ডিলিমিটেশন বিল আনার চেষ্টা করলে দল তার তীব্র বিরোধিতা করবে। তাঁর অভিযোগ, এর আগে বিলটি ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্র এখন 'ছলচাতুরি' করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড়ের চেষ্টা করছে।

নয়াদিল্লি: কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে সরকার যদি ফের ডিলিমিটেশন বিল পেশ করে, তাহলে দল তার তীব্র বিরোধিতা করবে। তাঁর অভিযোগ, এর আগে লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি পাশ করানো যায়নি। এখন কেন্দ্র সেই বিল পাশ করানোর জন্য নতুন করে কৌশল করছে।

কংগ্রেসের সংসদীয় কৌশল গোষ্ঠীর বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে জয়রাম রমেশ বলেন, অধিবেশনে যে বিলগুলি আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে দলে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি জানান, সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আইনি এজেন্ডা জানায়নি। ১৯ জুলাই সর্বদলীয় বৈঠকের পরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

‘ছলচাতুরির’ অভিযোগ কংগ্রেসের

রমেশ বলেন, "আমরা শুনেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার ডিলিমিটেশন বিল আনার চেষ্টা করছেন। গত ১৭ এপ্রিল এই বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকারের বড়সড় হার হয়েছিল। ওরা এখন সেই বিলটিই আবার ফিরিয়ে আনতে চাইছে।"

দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "কংগ্রেসের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট: আমরা ডিলিমিটেশন বিলের তীব্র বিরোধিতা করব এবং ভবিষ্যতেও করে যাব। সমস্ত বিরোধী দলকে একজোট রাখতে আমরা সবরকম চেষ্টা করব।"

তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকে ভেঙে আইনটি পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড়ের চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, "এটা সত্যি যে ১৭ এপ্রিলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক-দু'টি বিরোধী দলকে ভেঙেছেন। এটা সংবিধানের অপমান। ওরা ছলচাতুরি করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড়ের চেষ্টা করছে। এভাবে অন্য দল ভেঙে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করা সংবিধানের অবমাননা; এটা একটা কলঙ্কিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা হবে। যদিও লোকসভায় তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা বিরোধী দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। রাহুল গান্ধী যোগাযোগ করছেন, আমাদের কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও সেই সব দলের সঙ্গে কথা বলছেন, যারা ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ডিলিমিটেশন বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।"

মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে অবস্থান

মহিলা সংরক্ষণ আইন প্রসঙ্গে রমেশ বলেন, কংগ্রেস মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ সমর্থন করে, কিন্তু একে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধী। তিনি বলেন, "আমরা আগেও ১৬ ও ১৭ এপ্রিল বর্তমান লোকসভাতেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়েছিলাম। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩-এ মহিলাদের জন্য এই এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের কথা বলা আছে... ৫৪৩ সদস্যের লোকসভার এক-তৃতীয়াংশ হিসাব করলে ১৮১ জন হয়। সুতরাং, মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা আনুন, আমরা পূর্ণ সমর্থন করব। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ আইনের নামে যে ডিলিমিটেশন বিল আনা হয়েছিল, তা আসলে মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে একটি বিপজ্জনক ডিলিমিটেশন বিল ছিল।"

অন্যান্য প্রস্তাবিত বিলের বিরোধিতা

রমেশ আরও জানান, এই অধিবেশনে পেশ হতে চলা আরও কয়েকটি বিলেরও বিরোধিতা করবে কংগ্রেস। এর মধ্যে রয়েছে বরখাস্ত সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল, 'বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫', ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট (FCRA)-এর সংশোধনী এবং জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA), ২০১৩-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী।

তিনি বলেন, "আমরা 'বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল'-এরও বিরোধিতা করব... FCRA বিল আসারও সম্ভাবনা আছে; আমরা সেটারও বিরোধিতা করব... আমরা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর পক্ষে নই এবং এর তীব্র বিরোধিতা করব।"

তিনি যোগ করেন যে, দল "এক দেশ, এক নির্বাচন" সংক্রান্ত জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটির (JPC) রিপোর্ট নিয়েও আলোচনা করেছে, যা ১০ আগস্টের মধ্যে জমা পড়ার কথা।

সর্বদলীয় বৈঠক ‘নিয়মরক্ষা’

১৯ জুলাইয়ের সর্বদলীয় বৈঠকের আগে, এই ধরনের বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন রমেশ। তিনি এই বৈঠকগুলিকে "নিয়মরক্ষা" বলে অভিহিত করে দাবি করেন যে বিরোধী দলগুলির পরামর্শ নিয়মিত উপেক্ষা করা হয়। তিনি বলেন, যদিও এই ধরনের বৈঠকে ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা অংশ নেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং একজন প্রতিমন্ত্রী কেবল "শোনেন এবং নোট নেন", কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন "সেই দুজন ব্যক্তি, যাঁরা আসল কলকাঠি নাড়েন।"

সোনিয়া গান্ধীর সভাপতিত্বে কংগ্রেস সংসদীয় কৌশল গোষ্ঠীর বৈঠকটি দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী এবং সংসদীয় কৌশল গোষ্ঠীর সকল সদস্য।

উল্লেখ্য, সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিলটি গত ১৭ এপ্রিল লোকসভায় পাশ হতে ব্যর্থ হয়। বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ায় সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যায়নি। ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলা বাদল অধিবেশনে কেন্দ্র একটি সংশোধিত সংস্করণ পুনরায় পেশ করতে পারে বলে জল্পনা থাকলেও, সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার আইনি এজেন্ডা ঘোষণা করেনি।