উত্তরপ্রদেশে নতুন রাজ্য সভাপতি আরাধনা মিশ্র-মোনার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই লখনউয়ে প্রাক্তন সভাপতি অজয় রাইয়ের অফিসে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দল যখন সংগঠন মজবুত করতে চাইছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল।

উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে আরাধনা মিশ্র-মোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই প্রকাশ্যে চলে এলো কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল। ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন। ঘরগোছানোর সময়ই গোষ্ঠী কোন্দল উদ্বেগ বাড়িয়ে দিল হাইকমান্ডের। রবিবার লখনউয়ে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অজয় রাইয়ের অফিসে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি বেধে যায়। জুতো ছোঁড়াছুঁড়ি পর্যন্ত হয়।

বেহাল দশা উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের

২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস যখন নিজেদের সংগঠন মজবুত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দল যে পুরোপুরি প্রস্তুত, সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী মোনা।

গত ২ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে অজয় রাইয়ের জায়গায় উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (ইউপিসিসি) নতুন সভাপতি হিসেবে আরাধনা মিশ্র 'মোনা'-কে নিয়োগ করে কংগ্রেস। তিনি প্রতাপগড়ের রামপুর খাস থেকে তিনবারের বিধায়ক এবং উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় কংগ্রেস লেজিসলেচার পার্টির (সিএলপি) প্রাক্তন নেতা। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের রাজ্য ইউনিটকে শক্তিশালী করতে এবং রাজনৈতিক বিস্তার বাড়াতেই এই সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। এই রদবদল ঘিরেই উত্তাল হয়ে ওঠে অজয় রাইয়ের দফতর।

কংগ্রেসের নতুন কমিটি

পাশাপাশি, সাহারানপুরের সাংসদ ইমরান মাসুদকে কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছে কংগ্রেস। এছাড়া দেবেন্দর নিষাদ এবং অলোক প্রসাদকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল স্তরে দলকে শক্তিশালী করা, সব নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে চলা এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিক সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে মিলে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন মিশ্র।

আরাধনা মিশ্র-মোনার প্রতিক্রিয়া

নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিজের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেছেন আরাধনা মিশ্র-মোনা। তিনি জানান, দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বের আস্থার মর্যাদা রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন তিনি। তিনি বলেন, "দলীয় কর্মী এবং নেতৃত্ব আমার ওপর যে ভরসা রেখেছেন, তার মর্যাদা রাখাই আমার প্রধান কর্তব্য। আমাদের লক্ষ্য ২০২৭ সালে সরকার গঠন করা এবং উত্তরপ্রদেশকে এক নতুন দিশা দেখানো।"

ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন মোনা। তিনি জানান, দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর লড়াইয়ে কংগ্রেস কর্মীরা পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, "সামনে অনেক বড় দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে দলের প্রতিটি কর্মী এবং প্রবীণ নেতারা মিলে মিশন ২০২৭ সফল করবেন।"

মোনার ওপর আস্থা

মোনার নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি। দলের সঙ্গে মোনার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে একজন বিশিষ্ট বিধায়ক ও বর্তমানে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি হয়ে ওঠার রাজনৈতিক সফরের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিওয়ারি বলেন, "মোনা নিজের জীবন কংগ্রেসের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি চতুর্থ প্রজন্মের নেত্রী। পঞ্চায়েত সদস্য থেকে একজন বিশিষ্ট বিধায়ক এবং আজ উত্তরপ্রদেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বেই কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় ফিরবে।"

এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ

এদিকে, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অজয় রাই। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার জেরে বস্তি এলাকার বহু গরিব মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলে তাঁরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সরকারের চাপে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাই বলেন, "আমাকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী ভাগলপুর থেকে আসা আমাদের প্রথম বর্ষের ছাত্র আদিত্য কুমার আগস্ট মাসে ভর্তি হয়েছিল এবং তার মিড-সেমিস্টার পরীক্ষা চলছিল।" ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে যাঁরা সওয়াল করছেন, তাঁদের একবার বস্তি এলাকাগুলো ঘুরে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন রাই। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশ চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন।