ভারতে এখনও পর্যন্ত তেমনভাবে দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষা শুরুই হয়নি। রাজস্থান, অসম, পঞ্জাবের মত কয়েকটি রাজ্য নিজেদের উদ্যোগেই এই পরীক্ষা শুরু  করেছিল।  কিন্তু তাদেরও এই পরীক্ষা করা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। কারণ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের যে কিটগুলি দিয়েছিল সেগুলির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অসম কিট ফেরত দিয়েছিল। পরীক্ষা স্থগিত রেখেছে রাজস্থান। এই কিটের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সঠিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। যদিও আইসিএমআর জানিয়েছে, চিন থেকে আমদানি করা কিটের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা কখনই সম্ভব নয়। এই কিটের মাধ্যমে শুধু মাত্র নমুনা পরীক্ষা করাই সম্ভব। প্রথম থেকেই আইসিএমআর পিসিআর পদ্ধতিতেই টেস্টের ওপর জোর দিয়ে আসছে। 

সূত্রের খবর দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য চিন থেকে প্রায় ৫ লক্ষ কিট আমদানি করা হয়েছিল।  আগেই আইসিএমআর জানিয়েছিল আগামী দুদিন এই পরীক্ষার জন্য এই কিটের ব্যবহার বন্ধরাখা হোক। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন এই কিটগুলি দ্রুত ফেরত পাঠান হবে। আর এখনও পর্যন্ত কোনও কিটের দাম দেওয়া হয়নি। কারণ ইতিমধ্যেই কিট নিয়ে দুর্ণীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। 

কিট সমস্যায় ভারত কিছুটা হলেও করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে পিছিয়ে গেল। কিন্তু কেন? যার কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে দ্রুত নুমান পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি।জানুয়ারি মাস থেকেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল ভারতে। কিন্তু  কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ইন্ডিয়ার কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ দ্রুত পরীক্ষার জন্য চিনকে কিটের বরাত দিয়েছিল ৩০ মার্চ। ৫ এপ্রিল এই দেশে কিট এসে পৌঁছানর কথা ছিল। কিন্তু চিনের রফতানি নীতির কিছু জটিলতা থাকায় তা অনেকটাই দেরিতে ভারতে এসে পৌঁছায়। কারণ ১৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে বলা হয়েছিল চিন থেকে কিট আসছে। চিন থেকে যাওবা কিট এল তাতে আবার ধরা পড়ল ত্রুটি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংস্থাকেও কিট তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল। পুনের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউ অব ভাইরোলজি সেই পরীক্ষার পর সেই কিট তৈরির অনুমোদনও দিয়েছিল। লাল ফিতের ফাঁসে আটকা পড়ে সেই দেশীয় সংস্থাগুলিতে কিটে তৈরিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাই ভারতে নমুনা পরীক্ষার ভবিষ্যৎ প্রায় অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 


চিন থেকে আসা কিটে সমস্যা থাকায় আপাতত কি দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বন্ধ রাখা হবে? তার কোনও উত্তর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে দ্রুত নমুনা পরীক্ষায় বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে ভারত। ভারতে এখনও পর্যন্ত ৫ লক্ষেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। গড় হিসেবে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৯৩ জন মানুষের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। করোনা মোকাবিলায় দ্রুত নমুনা পরীক্ষা করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু এই সময় মুনের দেশকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে জার্মানি আর ইতালি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে তেমন সফল না হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নমুনা পরীক্ষায় জোর দিচ্ছে। 

এবার এক নজরে চোখ রাখব নমুনা পরীক্ষায় কোন দেশের অবস্থান কোথায়। 

জানুয়ারি মাস থেকেই  ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। কিন্তু এপ্রিলের শেষের দিকে এসেও সেই নমুনা পরীক্ষায়  তেমন সাফল্য আসেনি ভারতে। লকডাউনে ভারতের সাফল্য বিশ্বের নজর কাড়লেও নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মোদী সরকারকে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধিও বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধ লড়াইয়ে লকডাউনকে সাময়িক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এটা কোনও সুদূরপ্রসারী ফল নয়। দ্রুত নমুনা পরীক্ষাই এক মাত্র অস্ত্র। 

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে কবে রেহাই মিলবে, কী বললেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ...

আরও পড়ুনঃ সাফল্য দেখেও থামতে নারাজ কেরল, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে আরও বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি ...

আরও পড়ুনঃ মহামারীতে 'পৌষমাস' অধ্যাপকের ঘরে, করোনার ওষুধের খোঁজে হলেন কোটিপতি ...