গত নভেম্বর মাসের পর থেকে ভারতে ধীরে ধীরে কমছিল করোনার দাপট। কিন্তু, বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন অধিক সংক্রামক স্ট্রেনের আগমনের উদ্বেগের মধ্যেই ফের ভারতের দুই রাজ্যে কোভিড সংক্রমণের মাত্রা বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরেই মধ্যপ্রদেশের বাণিজ্যিক রাজধামনী ইন্দোরে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রায় ৭৫ দিন পর ফের বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে নতুন সংক্রমণের সংখ্য়া ৫০০০ ছাপিয়ে গিয়েছে। আর তারপরই নতুন করে কোভিড বিধি জারি করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।

২০১৯ সালে কোভিড মহামারির চরম সময়ে ভারতের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলির একটি ছিল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর। কিন্তু, ধীরে ধীরে এই শহরে কমেছিল কোভিডের দাপাদাপি। গত বেশ কয়েক মাস ধরে শহরের দৈনিক নতুন সংক্রমণের সংখ্যাটা ৫০-এর নিচে ছিল। কিন্তু, গত কয়েকদিনে প্রায় প্রতিদিনই সংখ্যাটা ফের ১০০-র কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে।
মঙ্গলবার নতুন সংক্রমণের সংখ্য়া ছিল ৮৯, বুধবার তা হয়েছে ৯৫। এখনও পর্যন্ত এই শহরে কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ৯২৭ জনের আর বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৩৫ জন। এই অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীদের সকলকে টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

অন্যদিকে ভারতের অন্যান্য অংশে কোভিড সংক্রমণের প্রভাব কমলেও একেবারে শুরু থেকেই ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য হিসাবে একেবারে প্রথমে থেকে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের নাম। তবে গত ৭৫ দিন এই রাজ্যের দৈনিক নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৫০০০-এর নিচে ছিল। বৃহস্পতিবারই ৫,৪২৭ জন নতুন করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে এই রাজ্যে। বিশেষত যবতমল ও অমরাবতী-র পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। এই অবস্থায় দুই জেলাতেই নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। যবতমলে প্রতি শনিবার রাত ৮ টা থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং অমরাবতীতে রবিবার করে লকডাউন জারি করা হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নতুন সংক্রমণের ঘটনাই ঘটেছে যবতমল, পান্ধারকাওড়া এবং পুসাদ শহরে।

নতুন করে কোভিড সংকট বাড়ছে মুম্বই শহরেও। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (BMC)-এর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারই নতুন কোভিড নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কোনও ভবনে ৫ বা তার বেশি ব্যক্তি আক্রান্ত হলেই সেই ভবনটি সিল করে দেওয়া হবে। এছাড়া লোকাল ট্রেনে কেউ মাস্ক ছাড়া ভ্রমণ করছেন কিনা, তা দেখার জন্য মার্শাল ভাড়ৃা করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে মাস্ক না ব্যবহার করলে ২০০ টাকা জরিমানার মাশুল গুনতে হবে। ব্রাজিলে নতুন কোভিড স্ট্রেনের সন্ধান পাওয়া যাওয়ার পর সাম্বার দেশ পেরতদের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে যারা থাকবেন, তাঁদের হাতের পিছনে স্ট্যাম্প মারা হবে।