করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কোভিশিল্ডের প্রথম ব্যাচটি মঙ্গলবার পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটের কারখানা থেকে বেরিয়ে পৌঁছে গেছে দিল্লি, কলকাতাসহ দেশের ১৩টি স্থানে। আর সেই মূহুর্তটি ঐতিহাসির বলেই ব্যাখ্যা করেছেন সেরাম কর্তা আদার পুনেওয়ালা। দেশের সকল মানুষের কাছে করোনা-টিকা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল চ্যালেঞ্জ বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যই বিশেষ দাম ধার্য করা হয়েছেন করোনা-টিকার।


আদার পুনেওয়ালা মঙ্গলবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে ভারত সরকারের জন্যই করোনা-টিকার বিশেষ মূল্য নির্ধারণ করেছেন। কেন্দ্রের অনুরোধেরই তাঁরা প্রথম ১০০ মিলিয়ন ডোজের ডোজ প্রতি দাম  ২০০ টাকা ধার্য করেছেন।  কোভিডের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের সুবিধের জন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছে। পুনেওয়ালার কথায়  স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাফাইকর্মীরা মহামারির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই লড়াই করে গেছেন। আর সেই কারণে তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। 

আদার পুনেওয়ালা মঙ্গলবার জানিয়েছে, খোলা বাজারেও করোনা-টিকা বিক্রি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেইসময় ডোজ প্রতি টিকার দাম ১০০০ টাকা ধার্য করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে বেসরকারি বাজার ভ্যাক্সিন বিক্রির বিষয় এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অনুমোদন জেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, বেসরকারি বাজার থেকে আগামী দিনে যাঁরা করোনা টিকা কিনতে চান তাহলে তাঁদের হাজার টাকা খরচ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 


সেরাম কর্তা আরও জানিয়েছেন বিশ্বের অনেক দেশই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে সেরামের তৈরি করোনা টিকা চেয়েছে। তিনি বলেছেন দেশের প্রতিটি মানুষের যত্ন নিতে তাঁর সংস্থা বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যদেশগুলিতেও টিকা সরবরাহের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাতে ভ্যাকসিন সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।