দিল্লিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কিউবার সমর্থনে প্রস্তাব পাশ হয়েছে। মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে দল। বৈঠকে কেরলের নির্বাচনে দলের ‘শোচনীয়’ পরাজয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জনমত বুঝতে ভুল হয়েছে বলে মনে করছে দল। পিনারাই বিজয়নকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়েও বৈঠকে অসন্তোষের কথা জানানো হয়।
দিল্লি: কিউবার পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করল সিপিএম। দিল্লিতে আয়োজিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে সিপিএম জানিয়েছে, কিউবার বিপ্লবী নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন চার্জশিট সম্পূর্ণ বেআইনি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমেরিকার এই হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের সাধারণ মানুষকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছে দল। তবে কেরলের বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন এই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি আসেননি। স্বাস্থ্যজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর বাতিল হয়।

বৈঠকে পলিটব্যুরোর তরফে পেশ করা রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেরলের হার দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা। এই ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। ভারতে এখন আর কোনও রাজ্যে বাম সরকার নেই, এমন এক পরিস্থিতিতে দিল্লিতে এই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। পলিটব্যুরোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেরলে দলের এই বিরাট পরাজয় খুবই হতাশাজনক। তবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া ছিল না বলেই মনে করছে দল। কিন্তু মানুষ যে একটা পরিবর্তন চাইছিল, সেটা বুঝতে পারেনি দল। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ইউডিএফ-এর প্রচারও ঠিকমতো আটকানো যায়নি।<!---p-->
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। দলের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে হার এবং সিপিএম ছেড়ে যাওয়া নেতাদের জয়কে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। রাজ্য কমিটি জানিয়েছে, নিচুতলার কর্মীদের মতামত জানার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
পিনারাই বিজয়নকে মুখ্যমন্ত্রী থাকার কারণেই পার্টি কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকার ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিরোধী দলনেতা করা উচিত নয় বলে পলিটব্যুরোর পাঁচজনের বেশি সদস্য দাবি করেছিলেন। সাধারণ সম্পাদক বৈঠকে জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতেই পিনারাইকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে কয়েকজন সদস্য বৈঠকে তাঁদের ভিন্নমত জানাতে পারেন। তবে পিনারাইকে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্ত আর পুনর্বিবেচনা করা হবে না। এতদিন পর্যন্ত কেরলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে একজোট হয়েই মতামত দিতেন। কিন্তু এই বিরাট হারের পর কেরলের নেতাদের মধ্যেকার ভিন্নমত এই বৈঠকে প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


