করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের পথে হেঁটেছে ভারত। দু-দফায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রায় ৪০ দিনের জন্য লকডাউনের কথা ঘোষণা করেছেন। লকডাউনের পর কেটে গেছে প্রায় ৩৭ দিন। এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। মৃতের সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়েছে। করোনা মোকাবিলায় নজীর তৈরি করেছে কেরলা। আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে সাফল্য কুড়িয়েছে দেশ বিদেশের। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে কেরলের এরাও একটা তথ্য সামনে এসেছ। যা রীতিমতই স্বস্তি জনক। 

হাসপাতাল ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই রাজ্যে অপরাধের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। একই সঙ্গে কমগেছে দুর্ঘটনা আর আত্মহত্যার ঘটনাও। 

কেরল পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথম দফার লকডাউন অর্থাৎ ২৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের যে পরিসংখ্যন পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে খুনের ঘটনা কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ধর্ষণের ঘটনা করেছে ৭০ শতাংশ। শিশু ও মহিলাদের ওপর হিংসার ঘটনা কমেছে প্রায় ১০০ শতাংশ। 

পাশাপাশি পুলিশ জানিয়েছেন বিগত বছরগুলির তুলনায় এই সময়ের ২১ দিনে নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা থেকে শুরু থেকে আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনার সংখ্যাও অনেক কমেছে কেরলে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, কেরল লকডাউনের কারণে পরিবারের সকল সদস্যরা একসঙ্গে রয়েছেন। সেই কারণে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। কেরল সরকারও নাগরিকদের মানসিক জোর দিতে সর্বদা সহায্য করছে। খোলা হয়েছে একটি হেল্পনাইলও । যেখানে ফোন করে নাগরিকরা তাঁদের সমস্যার কথা জানালে প্রয়োজনীয় সমাধানও পাবেন। পাশাপাশি লকডাউনের কারণে জনজীবন প্রায় স্তব্ধ। এই অবস্থায় রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও সীমিত। তাই দুর্ঘটনার সংখ্যাও অনেক কম।

শুধু কেরল নয় এই ছবি দেশের প্রায় সর্বত্র। বেঙ্গালুরুর প্রশাসনিক আর্ধিকর্তাদের কথায় গত এক সপ্তাহে ছোট ছোট ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের শিল্পাঞ্চালে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় হাসপাতাল গুলি থেকে বড় কোনও দুর্ঘটনায়  ভর্তি হওয়া রোগীরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

তেলাঙ্গনা পুলিশ জানিয়েছে লকডাউনের এই সময় রাজ্যে অপরাধ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঘটনাও অনেক কমেছে। 

আরও পড়ুনঃ লকডাউনে দরিদ্রদের সাহায্য করতে ৬৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন, যা খুব বেশি নয় , রাহুলকে বললেন রাজন ...

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা গগনচুম্বী, ইঙ্গিত দিচ্ছে সমীক্ষা রিপোর্ট ...

এই ছবিটাই দেখা গেছে গুরুগ্রামে। অপরাধের মুক্তভূমি হিসেবেই পরিচিত গুরুগ্রাম। লকডাউনের এই সময় সেই এলাকাও অনেক শান্তিপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে ধর্ষণ, খুন, চুরি ও ডাকাতির মত অপরাধ সম্পর্কিত ২৬০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ কম। তবে লকডাউনের নিয়ম ভাঙায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন গতবছরও যেখানে ২০০ বেশি গাড়ি চুরির অভিযোগ সামনে এসেছিল এই সময় সেখানে মাত্র ৫টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।