Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, এটি কোন ভাষার শব্দ, এর অর্থই বা কী?
ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে সতর্কতা জারি। অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কেরলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আবহাওয়াজনিত উদ্বেগ। আবহাওয়া বিভাগের তালিকা অনুযায়ী আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে মুরাসু।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে সতর্কতা জারি। অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কেরলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আবহাওয়াজনিত উদ্বেগ। আবহাওয়া বিভাগের তালিকা অনুযায়ী আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে মুরাসু। ‘মুরাসু’ নামের এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কীভাবে হল, কোথায় আছড়ে পড়তে পারে এবং কোন কোন এলাকায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে—তা নিয়েই সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন।

কী অর্থ ‘মুরাসু’? কে রেখেছে এই নাম?
‘মুরাসু’ নামটি দিয়েছে ভারত। এটি একটি তামিল শব্দ। তামিলনাড়ুর ডঙ্কা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র হল মোরাসু। প্রাচীন দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস ও রাজ্যগুলোতে ‘মুরাসু’ (murasu) ছিল এক ধরনের বড় যুদ্ধ-ঢোল বা রাজকীয় ঢোল। কোনও সরকারি ঘোষণা প্রচারের জন্য, লোকজনকে একত্রিত করার জন্য, কিংবা আসন্ন বিপদ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য এই ঢোল বাজানো হতো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র অধীনে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। ভারত-সহ ১৩টি দেশ এই নামের তালিকা তৈরি করেছে।
কবে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি ৩১ অক্টোবর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেটি আরও শক্তি বাড়িয়ে ১ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। মাচিলিপত্তনমের কাছাকাছি উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তবে ঠিক কোথায় স্থলভাগে আছড়ে পড়বে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কতটা শক্তিশালী হতে পারে ‘মুরাসু’?
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কোন কোন রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস?
- অন্ধ্রপ্রদেশ: ২ ও ৩ নভেম্বর উপকূলবর্তী এলাকা এবং রায়ালসীমায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
- তামিলনাড়ু: ১ থেকে ৩ নভেম্বর উত্তর উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা। তিরুভাল্লুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
- পুদুচেরি: বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশঙ্কা।
- কেরল: ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
- ওড়িশা: দক্ষিণ ওড়িশার কয়েকটি জেলায় ১ থেকে ৩ নভেম্বর বৃষ্টি হতে পারে।
এক ঘূর্ণিঝড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন আশঙ্কা
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কৃষিকাজ ও উপকূলবর্তী এলাকার পরিকাঠামোর উপর নতুন করে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।