রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই দ্রুতগতির পরিষেবা ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে আরও সহজ করবে।
উত্তরপ্রদেশের মানুষের জন্য আগামী দিনে দিল্লি থেকে কাশী যাত্রা আরও সহজ ও দ্রুত হতে চলেছে। বর্তমানে ট্রেনে দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ভবিষ্যতে বুলেট ট্রেনে এই দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটে। দেশে বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পথে বড় পদক্ষেপ করে উত্তর করিডরে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই করিডরের মাধ্যমে দিল্লির সঙ্গে আগরা, কানপুর, লখনউ, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ এবং বারাণসীর মতো শহরগুলিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হবে বিহারের পটনা পর্যন্তও।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব উত্তর করিডরের বুলেট ট্রেন প্রকল্পের সম্ভাব্য যাত্রার সময় সম্পর্কে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরপ্রদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে যাবে। বুলেট ট্রেন চালু হলে দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট। অন্যদিকে, বারাণসী থেকে প্রয়াগরাজ পৌঁছনো যাবে মাত্র ৩৩ মিনিটে। বারাণসী থেকে লখনউ যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট এবং পটনা পৌঁছতে লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা।
এর ফলে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পড়ুয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসার প্রয়োজনে অন্য শহরে যাতায়াতকারী রোগীদেরও অনেক সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লি থেকে কোন শহরে পৌঁছতে কত সময় লাগবে?
উত্তর করিডরের আওতায় দিল্লির সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের একাধিক বড় শহরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রেলমন্ত্রীর দেওয়া সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী—
দিল্লি থেকে আগরা: ৫৯ মিনিট
দিল্লি থেকে কানপুর: ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
দিল্লি থেকে লখনউ: ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট
বারাণসী থেকে আগরা: ২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট
বারাণসী থেকে প্রয়াগরাজ: ৩৩ মিনিট
বারাণসী থেকে পটনা: ১ ঘণ্টা
এই নেটওয়ার্ক চালু হলে উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি বিহারের যাত্রীরাও দ্রুতগতির রেল পরিষেবার সুবিধা পাবেন।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই করিডরে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে যাত্রীদের ট্রেনের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। তাঁর দাবি, বুলেট ট্রেন পরিষেবা শুধুমাত্র বড় ব্যবসায়ী বা ধনী ব্যক্তিদের জন্য নয়। মধ্যবিত্ত, ছোট ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, যুবক-যুবতী এবং পড়ুয়ারাও এই পরিষেবা থেকে উপকৃত হবেন।
রেলমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত প্রস্তাবিত উত্তর করিডরের নকশা তৈরির কাজ বর্তমানে চলছে। প্রকল্পে ব্যবহৃত গার্ডার ও পিলারের মতো বিভিন্ন অংশ কারখানায় তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রাখা এবং কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।




